স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন রেঞ্জের বনাঞ্চল এবং দেউন্দি চা বাগান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গভীর রাতে বন ও চা বাগানের বিভিন্ন স্থান থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দেউন্দি চা বাগান ও শালটিলা বন বিট এলাকায় গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি স্থানীয় কিছু দিনমজুর ও চা শ্রমিদেরকে মজুরির ভিত্তিতে দিয়ে গভীর রাতে গাছ কাটিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চা শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে গাছ কেটে সকালে বা সন্ধ্যায় বিভিন্ন যানবাহনে করে পাচার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পান। বন বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, বনাঞ্চলে অভিযান পরিচালনার সময় বনরীরা প্রায়ই বাধার মুখে পড়েন। অভিযুক্তদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় বনরী ও চা বাগানের পাহারাদারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইতোপূর্বে জসিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় গাছ চুরির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গত ১ আগস্ট দেউন্দি চা বাগান থেকে ছয়টি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে গত ১৮ জুন শালটিলা বন বিটের ফুলছড়ি বন ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন বিভাগের সদস্যরা গাছ কাটার সময় একজনকে আটক করেন। পরে বন আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ গাছ কাটার পাশাপাশি কিছু এলাকায় ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনাও ঘটছে। তারা এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বন ও চা বাগানের গাছ রায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ গাছ কাটা ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।