বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ॥ বিলুপ্তির পথে মাটির ঘর

  • আপডেট টাইম বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০১৫
  • ১০৩৩ বা পড়া হয়েছে

এম এ আই সজিব ॥ সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো অনেক অনেক মাটির ঘর। যাকে গ্রামের মানুষ বলেন, গরিবের এসি ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম ও খুব শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর, এখন আর হবিগঞ্জে তেমন একটা নজরে পড়ে না। গ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে এবং কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করে গরিব পরিবারগুলো এখন তৈরি করছে ছোট-বড় আধাপাকা বাড়ি। যার নিচের অংশ ইট-সিমেন্টের তৈরি, উপরের অংশে দেওয়া হয় টিনের তৈরি ছাউনি। এক সময় হবিগঞ্জের প্রতিটি উপজেলাতেই মাটির ঘর চোখে পড়তো। মাটির ঘরকে স্থানীয়ভাবে ‘কোঠার ঘর’ বলে থাকেন অনেকেই। তবে সামান্য কয়েকটি জায়গা ছাড়া এখন আর কোথাও এ ঘর দেখা যায় না।
এখন বর্তমানে চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় সামান্য কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার কেন্দুয়াবহ গ্রামেও রয়েছে কয়েকটি মাটির ঘর।
ঘরের গাঁথুনি দেওয়ার সময় কারিগররা একটি স্তর (১ থেকে দেড় ফুট) মাটি দিয়ে গেঁথে ফেলেন। এ অংশ শুকিয়ে গেলে আবারো গাঁথুনি শুরু করেন। এভাবে মাটির ঘর তৈরি করে ছাদ হিসেবে বাঁশ ও তার উপরে মাটির প্রলেপ দিয়ে থাকেন। ফলে এই ঘরটিতে সবসময় ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করে। ঘরের ভিতর ও বাইরে আকর্ষণীয় করার জন্য গ্রামীণ আল্পনায় গৃহবধূরা কাঁদা-পানি দিয়ে লেপ দিয়ে থাকেন। অনেকে এই মাটির ঘরে সিমেন্টের লেপ দিয়ে আরো মজবুত করে তোলেন।
গত কয়েক বছর ধরে মাটির ঘর নতুন করে কেউ আর তৈরি করছেন না। ইট, বালুর সহজলভ্যতার কারণে এবং গরিব মানুষগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে চিরায়ত বাংলার মাটির তৈরি এসব ঘর।
মাটির ঘরের কারিগর পবন দাস জানান, প্রায় ২০ বছর আগে মাটির ঘর বানানোর জন্য সময় পেতাম না। একটি ঘর বানানোর পর পরই আরোটিতে কাজে লাগতে হত। কিন্তু এখন আর এগুলো বানাই না। সবাই এখন পাকা, আধা-পাকা কিংবা টিনের ঘর বানায়। এক একটি মাটির ঘরগুলো বানাতে মাস খানেক সময় লেগে যেত। তবে এক মাসে প্রায় ৫-৭টি ঘরের কাজ করতাম।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com