বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

নবীগঞ্জে শিশুদের ভিক্ষা বৃত্তিতে নামিয়ে ব্যবসা! ॥ ভিক্ষা আদায় করতে বোরকা, জামাকাপড় ধরে টানাটানি

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫৯৭ বা পড়া হয়েছে

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ শহরে শিশু ভিক্ষুকের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব শিশুদের প্রশিক্ষণ দিয়েই ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এদের বেশীর ভাগেরই বয়স ৮ থেকে ১০/১২ বছর বয়স। এরা এতই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যে যার কাছে একবার ভিক্ষা চাইবে তাকে ভিক্ষা না দিয়ে নিস্তার নেই। আর ২-৪ টাকা নয়, ১০ থেকে ২০ টাকা দিতে হবে। পারতপক্ষে ৫টাকার কম নয়। পড়নের জামা-কাপড় বা বোরকা ধরে টানাটানি শুরু করে। ফলে লোকলজ্জার ভয়ে ভিক্ষা দিতেই হয়। শহরের শেরপুর রোড, মধ্যবাজার, ওসমানী রোড, নতুন বাজার মোড়, হাসপাতাল সড়কসহ সর্বত্র এসব শিশুরা দল বেধে ভিক্ষায় নামে। শহরের নতুন বাজার মোড় যেন তাদের ক্যাম্প ! সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন মার্কেটের সামনে এসব শিশু ভিক্ষুকরা দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। একটি দলে ৩ থেকে ৫জন সদস্য থাকে। তাদের প্রধান টার্গেট থাকে স্কুল-কলেজের ছাত্রী ও শহরে কেনা-কাটা করতে আসা মহিলারা। মহিলারা না-কি পুরুষের চাইতে ভিক্ষা বেশি দিয়ে থাকেন এবং এরা দরদি টাইপের হয় বলে জানালো সোহেল নামের এক শিশু ভিক্ষুক।
শহর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ক্রেতা বা পথচারিকে এরা ঘিরে ধরে। কেউ যখন গাড়ি কিংবা রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মেটাতে পকেটে হাত দেয় তখনই এরা চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরে। ‘স্যার একটু সাহায্য করেন, ‘আপা কিছু টেকা দেইন’, ‘হারা দিন ভাত খাইছিনা স্যার’ এইসকল বাক্যে জর্জরিত হতে হয় ক্রেতাসাধারণকে। কোন কোন ক্রেতা ভিক্ষা না দিয়ে দ্রুত মার্কেটের ভিতর ঢুকে গেলেই শুরু হয় তাদেরকে নিয়ে নানা কটুক্তি। কটুক্তি শোনে কারো ভেতরটা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেও মান-ইজ্জতের ভয়ে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। টাকা না দিলে অনেক ভিক্ষুক স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের বোরকা ধরেও শুরু করে টানাটানি।
“উপায় নাই ভাই, এমন ভাবে পেছনে লেগে থাকে না দিয়ে উপায় নাই। তাছাড়া এরা ১/২টাকা ভিক্ষা নেয় না, ১০/২০টাকা চায়। না পারতে ৫ টাকা দিয়ে রেহাই। খুবই কষ্টে আছি, এদের যন্ত্রণায় মার্কেটে আসা দায় হয়ে পড়েছে।” এমন কথা জানালেন কলেজ রোডের ফারজানা আক্তার।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তাদের রয়েছে গডফাদার। সেই গডফাদার তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে সেটিং করে দিয়ে থাকে। অন্তরালে থেকে এসব শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। তবে কে সেই গডফাদার? তাকে খুজে বের করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com