মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের ছোড়া গুলিতে সোহাগ মিয়া (১৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সীমান্ত পিলার ১৯৭৪/৮-এস থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে প্রবেশের পর ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিরোধ ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত সোহাগকে তার সঙ্গীরা বাংলাদেশে এনে চুনারুঘাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দুপুরে কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যক্তি চোরাচালানকৃত গরু আনার উদ্দেশ্যে চুনারুঘাটের চিমটিবিল সীমান্ত দিয়ে শূন্যরেখা অতিক্রম করে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে ভারতীয় চোরাকারবারি দলের সঙ্গে তাদের বিরোধ ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে সোহাগ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আহত সোহাগকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে চুনারুঘাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিজিবি জানিয়েছে, নিহত সোহাগ মিয়ার বাড়ি চুনারুঘাট থানা এলাকায়। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এলাকায় চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই চিমটিবিল বিওপির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্তরী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, তাদের এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা তারা খতিয়ে দেখছে।
এ ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আজ জরুরি ভিত্তিতে বিওপি পর্যায়ে ফ্যাগ মিটিং আহ্বান করেছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ৫৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, সীমান্তের ঘটনাটি সম্পর্কে বিজিবি অবগত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।