স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বুরহানপুর, মল্লিকপুর, মানিকপুর, ফতেপুর চার গ্রামবাসীর পঞ্চায়েতী শত বছরের কবরস্থান জায়গায় জোর পূর্বক অবৈধ ভাবে গাউড ওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত ৩টায় নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কবর স্থানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পুলিশ সূত্র জানায়, অবৈধ কবর স্থানের ভূমি দখলের জন্য জনৈক ইংল্যান্ড প্রবাসী জাকির মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল গাউড ওয়াল তৈরী করে কবর স্থানে ভূমি দখলের চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে তাদের সাথে গ্রামবাসীর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাউড ওয়াল নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হোসেন জানান, কবর স্থানকে কেন্দ্র আইন পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয় এ জন্য গাউড ওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর মৌজার এসএ জেএল নং-এসএ ৪৯. আর এস জেএল-৪৬ এস এ খতিয়ান নং-৩৭০, আরএস খতিয়ান নং-১৯. এসএ দাগ নং-৯৬. আরএস দাগ নং-১০৩.৬৪২ মোয়াজী ৩৬.৩৪ একর ভুমি। উক্ত ভূমিতে শত বছর ধরে বুরহানপুর, মল্লিকপুর, মানিকপুর, ফতেপুর গ্রামের মৃত ব্যক্তিদের দাফন করে আসছেন। কবর স্থানের পাশেই ভূমিতে পুকুর খনন করা হয়। পুকুরে মৃত ব্যক্তিদের জানাজার নামাজের পূর্বে ওজু করেন। কিন্তু ৪ গ্রামের এজমালী ঐতিহাসিক কবর স্থানটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকির মিয়া, খালেদুর রহমান, ফয়জুর রহমান, তায়েফ মিয়া, তারেক মিয়া, গং দীর্ঘদিন ধরে দখলের পায়তারা করে আসছেন। এতে চার গ্রামবাসীরা বাধা দিলেও তারা তাদের আত্মীয় নবীগঞ্জের বিএনপি’র এক প্রভাবশালী নেতার মদদ পেয়ে কোন ধরণের বাধা আপত্তি মানছেন না। গোপনে তফসিল বর্ণিত ভূমির রেকর্ড তাদের নামে করেন তারা। কিন্তু ভূমিটি রক্ষার জন্য ৪ গ্রামবাসীর পক্ষে রাহেল মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নং-১৭৩/২০২৫ (নবী)। মামলাটির রায় গ্রামবাসীর পক্ষে আসে। পরবর্তীতে এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে আদালত থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আিদালতের নির্দেশনা অমান্য করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকির মিয়ার নেতৃত্বে খালেদুর গং জোর পূর্বক ভাবে ভূমিতে দেয়ালের বাউন্ডারী দিতে গেলে গ্রামবাসী বাধা দেন। কিন্তু তারা বাধা না মেনে গ্রামবাসীকে বাউন্ডারী দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এ প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ৪ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মাহের হোসেন মাজু বাদী হয়ে জায়গার রেকর্ড সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। এ দিকে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে অভিযুক্তরা পূর্ণরায় ভূমিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার জোর পূর্বক ভাবে দেয়ালের বাউন্ডারী তৈরী চেষ্টা করেন। এতে গ্রামবাসীরা বাধা প্রদান করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা বাধা না মেনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক কবরস্থানের ভূমিটিতে রাতের আধারেও বাউন্ডারী নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ৪ গ্রামবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিটি রক্ষার জন্য খালেদুর রহমান, ফয়জুর রহমান, তায়েফ মিয়া, তারেক মিয়া আসামী করে ৫ গ্রামবাসীর পক্ষে নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাহের হোসেন মাজু। একটি মামলা করেন। এ প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাউড ওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করেন। কিন্তু শনিবার আবারও তারা কাজ শুরু করেন। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। মাহের হোসেন জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতের আধারে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কবর স্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাকির মিয়া, খালেদুর গং। এ ব্যাপারে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও কবরস্থানে ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।