স্টাফ রিপোর্টার ॥ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত চুনারুঘাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র জশনে জুলুশে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট), ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে সকাল ৯টায় চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ মাঠে জুলুশপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো নবীপ্রেমিক সুন্নি মুসল্লি সমাবেশে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে চুনারুঘাট পৌর শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সভাপতি ও সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুলের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা শেখ জামাল আহমদ ও মাওলানা আব্দুল কাশেমের যৌথ সঞ্চালনায় জুলুশপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ঈদে মিলাদুন্নবী বিরোধী এবং পবিত্র কোরআনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সুন্নি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পৃথিবীতে শুভাগমনের মধ্য দিয়ে মানবজাতি আলোর পথের সন্ধান পেয়েছে। মহানবীর আদর্শ অনুসরণই মানবজাতির কল্যাণ ও মুক্তির পথ। তারা পীর-আউলিয়া ও মাজারকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং মাজার ভাঙচুরের মতো ঘটনার নিন্দা জানান।
এ সময় বক্তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সুফিবাদী সুন্নি মতাদর্শের অনুসারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শহীদ আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব মাওলানা আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, মাওলানা শাহ জালাল আহমদ আখঞ্জী, ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সচিব আলহাজ্ব মাওলানা ছোলাইমান খান রাব্বানী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম জাফরী, চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ আলী, মাওলানা মুফতি মুসলিম খান, কাজী মাওলানা আবুল খায়ের শানু, মাওলানা ফজলুল হক, মাওলানা মতিউর রহমান হেলালী, মাওলানা শেখ মোশাহিদ আলী, হাজী মো. কুতুবউদ্দিন, উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা মো. ইয়াকুত মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম তালুকদার দুলাল, সাংবাদিক এস এম সুলতান খান মেম্বার, মাওলানা আজিজুল হক সোহাগ, শফিউল আলম জুয়েল, মাওলানা মোশাহিদুল ইসলাম, মাওলানা মামুনুর রশীদ ও উপজেলা ছাত্রসেনার সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ্ আল মামুনসহ অনেকে। আলোচনা শেষে একটি বিশাল জশনে জুলুশ বের করা হয়। জুলুশটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়। পরে মিলাদ শরীফ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশ ও বিশ্বের শান্তি, নির্যাতিত মুসলিমদের কল্যাণ এবং সমগ্র দেশ ও জাতির ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি কামনা করা হয়। একই সঙ্গে মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।