স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম কান্ড। ইউএনও অফিস ও সমাজসেবা কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবাশ্বির আহমেদ মজনু ও যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অফিস ভাংচুর ও ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীকে লাঞ্চিত করার ঘটনা ও ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পূর্বে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে ইউএনও অফিস ঘেরাও করেন প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী। এ সময় অফিস ভাংচুরের পাশাপাশি ইউএনওকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন তারা। এর আগে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোবাশ্বির আহমেদ মজনু সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনারে জড়ো হওয়ার জন্য (ফেসবুকে) ছাত্রদল নেতা কর্মীদের আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উল্লেখ যোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ৪ নং ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া, জনাব আলী কলেজ ছাত্রদল আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম বাবু। জানা যায়, কয়েকদিন অগে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ প্রত্যাশিদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পর গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলাম ফলাফল প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা করেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। অনেকে লেখেন বৈষম্য বিরোধী মামালার আসামী ছাত্রলীগ নেতা সালমান জামান লস্কর, ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ শোয়েবকে সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের বাইরেও যারা মনোনীত হয়েছে তারা অনেকেই ফ্যাসিবাদের দোসর। অবিলম্বে নিয়োগ বাতিল করে পূণরায় নিয়োগের দাবী জানান। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড শুমারী নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে হামলা ভাংচুর কাম্য নয়, যে বা যারা এটা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। 
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ মেধার বাইরে জনবল নিলে ব্যবস্থা নেবেন, সেই দিক বিবেচনায় স্বচ্ছতার নিরিখে আমরা প্রায় ১৬শ জন আবেদনকারীর ৯ জন দক্ষ অফিসারকে প্রধান করে ৯টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছি। মেধাক্রমানুসারে ১০০ জন চূড়ান্ত এবং ৬০ পার্সেন্ট অপেক্ষামান রাখা হয়েছে। বাকি ১৪শ আবেদনকারী বাদ পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত তালিকা খসড়া করে বিএনপির স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের ওয়াকিবহাল করা হয়েছে, তালিকাতে যদি মামলার আসামী কিংবা অপরাধীদের তারা চিহ্নিত করলে আমরা বাদ দিতে পারতাম। এছাড়াও নিয়োগ নীতিমালায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে, কোনো আসামী কিং অপরাধী তালিকায় ঢুকলে সরাসরি বাতিল করা হবে। যারা আন্দোলন করেছেন তারা আমাদেরকে অবগত করলেই ব্যবস্থা করা হতো, তা না করে তারা নিজ দলীয় সরকারের অন্যতম জনকল্যান কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত হয়নি।