বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

হবিগঞ্জের ২৩টি চা বাগানের কিশোর কিশোরীরা নানা সংকটে বেড়ে উঠছে

  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ দেশের চা শিল্পে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি ও মাধবপুর উপজেলার ৫টিসহ মোট ২৩টি চা বাগানের কিশোরীরা এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সামাজিক বৈষম্যসহ নানা সংকটের মধ্যে বেড়ে উঠছে। দারিদ্র্য, স্বল্প মজুরি, সচেতনতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি তাদের স্বাভাবিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক কিশোরীর স্বপ্ন অকালেই থেমে যাচ্ছে।
চা শ্রমিকদের ভাষ্য, দেড় শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই জনগোষ্ঠী স্বল্প মজুরি ও নানা বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করছে। সপ্তাহের রেশন ও মজুরি দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচই মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অনেক পরিবার সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারে না। বই-খাতা, স্কুলের পোশাক ও যাতায়াত ব্যয়ের অভাবে অনেক কিশোরী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। কেউ কেউ আবার সংসারের কাজে কিংবা চা বাগানে শ্রম দিয়ে পরিবারের আয় বাড়াতে বাধ্য হয়।
সুরমা চা বাগানের শ্রমিকনেতা অভিরত বাক্তি বলেন, চা বাগান এলাকায় বাল্য বিয়ে এখনও বড় সামাজিক সমস্যা। অনেক পরিবার নিরাপত্তার কথা ভেবে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিলেও এতে তাদের শিক্ষা জীবন থেমে যায়। অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বেড়ে যায়। সচেতনতা বাড়লেও সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়নি। চন্ডিছড়া চা বাগানের হেমন্তী সাঁওতাল বলেন, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক বাগানে মানসম্মত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নারী চিকিৎসক না থাকায় কিশোরীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি চা বাগানে সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
স্থানীয় শিক্ষক বিশ্বজিৎ মুন্ডা বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে, যাতে কোনো কিশোরী অর্থনৈতিক সংকট বা সামাজিক চাপে লেখাপড়া বন্ধ না করে। মাধবপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পিয়ারা বেগম বলেন, কিশোরীদের জন্য জীবনদতা শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শের ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। হবিগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রোমানা আক্তার জানান, চা বাগানের জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারকে ৩০ কেজি চাল, গর্ভবতী নারীদের আর্থিক সহায়তা এবং কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চানপুর চা বাগানের নারী নেত্রী খাইরুন আক্তার বলেন, চা বাগানের কিশোরীদের উন্নয়নের জন্য শ্রমিক পরিবারের ন্যায্য মজুরি, ভূমির অধিকার এবং পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে। চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, সরকার চা বাগানের কিশোরীদের উন্নয়নে উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, কিশোরী ক্লাবসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে।

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com