সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

কাগাপাশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ভিজিডির কার্ডের চাউল নিতে সঞ্চয় এর অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগীরা উপস্থিত হয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী রহিমা খাতুন, শাকিরুন আক্তার, তাসলিমা বেগম, শেফালী বেগম, সালমা আক্তার, জুনিয়া খাতুন, সাহেদা খাতুন, ফেরদৌসী আক্তার, শারমীন আক্তার, ইমরান আক্তার সহ আরো ৩০/৪০ জন উল্লেখ করেন সরকারের ভিজিডি চাউলের বরাদ্দে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে ২২০ টাকা সঞ্চয় নেওয়ার কথা থাকলেও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে ১৮৬ জন ভাতাভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ২৭০ টাকা আদায় করছেন। যারা সঞ্চয়ের ২৭০ টাকা দিচ্ছেন না তাদেরকে চাল দেওয়া হচ্ছে না। এসব ভাতাভোগীরা চাউল না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এছাড়া অভিযোগে তারা আরো উল্লেখ্য করেন তাদের কাছ থেকে যেসব সঞ্চয়ের টাকা নেওয়া হয়। সেই সঞ্চয়ের টাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোথায় জমা রাখেন তারা জানেন না। লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রতি মাসে যখন ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়, কার্ডধারীদের জানানো হয় না। চাল বিতরণের বিষয়টি গোপন রাখা হয়। লোকজনের মুখে চাউল বিতরণের খবর পেয়ে চাল নেওয়ার জন্য কার্ডসহ বিতরণ কেন্দ্রে গেলে অভিযোগকারীরা জানতে পারেন কয়েকজন ভাতাভোগীকে চাল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামায়ূন কবির বিতরণ কেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। পরবর্তীতে ভাতাভোগীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান পরের দিন আসার জন্য। পরে দিন বিতরণ কেন্দ্রে চাল আনতে গেলে ভাতাভোগীরা দেখে কেন্দ্রটি বন্ধ। এভাবেই দিনের পর দিন ভাতাভোগীদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ হলেও ভাতাভোগীদের ২৬/২৭ কেজি চাল দেওয়া হয়। তারা অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভাতাভোগীর চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। চাউল ও সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিতরণ কেন্দ্রটি মিলন বাজার থেকে হস্তান্তর করে আনন্দ বাজারে নিয়ে যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ভাতাভোগীরা আনন্দ বাজারে গিয়ে পূর্বের বকেয়া চালের কথা জিজ্ঞেস করলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামায়ূন কবির কাছ থেকে চাল নেওয়ার কথা জানান।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, উপকারভোগীদের অনেকেই মূলকার্ড ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমানের কাছে রয়েছে। যা তদন্ত করলে পাওয়া যাবে। প্রতি ভিজিডি কার্ডের ২/৩ মাসের চাল না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৩নং ওয়োর্ড মেম্বার সামায়ূন কবির গং চাল ও সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাত করছেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে কালভার্ট নির্মাণ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল। এক পর্যায়ে প্রশাসনের চাপের মুখে পড়ে শাহিনুর টাকা ফেরত দেন। শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কাগাপাশা ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিকদের কাছে সঞ্চয়ের ২২০ টাকার নেওয়ার স্থলে ২৭০ টাকা নেওয়ার কথা ও কিছু কার্ড ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করেন। কয়েক মাসের চাউল পাইনি ভুক্তভোগীরা তাও স্বীকার করেন। এমতাবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর ও ৩নং ওয়ার্ড সামায়ূন এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com