নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার আলিম ক্লাসের ২৪ শিক্ষার্থী অবশেষে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোয়ালাবাজার শাহ জালাল (রহ:) কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপী সমঝোতা বৈঠকে বকেয়া বেতন বাবদ এককালীন ৫০ হাজার টাকা অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখন পরিশোধ করেন। ফলে ২৪ জন আলিম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গোয়ালাবাজার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলাউর রহমান আলার সভাপতিত্বে উক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল জিলু, ওসমানী নগর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া, শাহ জালাল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃ মোশারফ হোসেন, গভঃবডির সাবেক সদস্য হাজী সামছু মিয়া, মাহফুজুর রহমান দুলাল, জাকির হোসেন, মনির আলী, সদস্য আব্দুল মুকিত চৌধুরী, আবু আহমদ এমদাদ, জুনু মিয়া, মেম্বার বেলাল মিয়া, সাবেক মেম্বার মানিক মিয়া, ডাঃ আব্দুল মুমিন, শায়েস্তা মিয়া,হেলাল আহমদ, মামুন মিয়া, আব্দুল মুমিন, মাধবপুর মাদ্রাসার যুক্তরাজ্য উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম চৌধুরী, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তফা মিয়া, জগলু পাশা, তজমুল আলী প্রমুখ। সভায় বকেয়া বেতনের ২ লাখ ৭ হাজার ১২০ টাকা অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখন আটক করায় ২৪ জন আলিম শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ মাধবপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখন এর দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয় টি ফলাও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলে অধ্যক্ষসহ প্রশাসনের টনক নড়ে। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখন স্থানীয় গণ্যমান্য মুরুব্বি নিয়ে সমঝোতায় ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন চিন্তা করে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে বাকী টাকা মওকুপ করে ২৪ জন শিক্ষার্থী কে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ২৪ পরীক্ষার্থীর। মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখন-এর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে অবস্থিত হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বেতন বাবদ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করেন মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। কিন্তু ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে এবং প্রতিষ্ঠানটির পাওনা পরিশোধ না করেই ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয়। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা আরও বেড়ে যায়। এ বিষয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধ না করে ২৪ জন আলিম পরীক্ষার্থীকে অন্য মাদ্রাসায় স্থানান্তর করায় অনিয়ম সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এদিকে হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রেরিত আলিম রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বেতন, ফি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্ড গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে সৃষ্ট কোনো জটিলতার দায়ভার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।