বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

খোয়াই নদী খনন ও তীর থেকে ময়লা আবর্জনা অপসারণের দাবিতে নৌ-যাত্রা কর্মসূচি

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নদীকে কেন্দ্র করে যে জীবন ব্যবস্থা, সভ্যতার কথা বলা হয় তা এখানে সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। কারণ এখানে নদী বিধ্বংসী কার্যক্রম করা হয়। নদীর বুকে ময়লা ফেলে ভাগাড় করা হয়, দখল করা হয়, নদীর বুকে স্থাপনা তৈরি করা হয়! খোয়াই নদী খনন ও তীর থেকে ময়লা আবর্জনা অপসারণের দাবিতে নৌ-যাত্রা কর্মসূচি থেকে বক্তারা একথা বলেন। গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার। এতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন অংশ নেন। তাঁরা নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এসময় খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল এর সভাপতিত্বে নৌ সভা থেকে বক্তারা বলেন, একসময়ের খরস্রোতা খোয়াই নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনসহ নদীকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নদীকে এখন বৃহৎ ডাস্টবিন হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। খোয়াই মুখ এলাকায় বহু বছর ধরে নদী ও তীরে ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীর অনেকাংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে। যা থেকে চরম দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ওই এলাকা দিয়ে জেলার তিনটি উপজেলায় যোগাযোগ রয়েছে। চরম দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।
নৌকার মাঝি ফারুক মিয়া বলেন, আমাদের নৌকা ঘাটটি ছিল পার্শ্ববর্তী গরুবাজার এলাকায়। এক যুগ আগেও সেখানে শত শত যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌকা আসতো। এখন সেগুলো ইতিহাস।
দু যুগেরও বেশি সময় ধরে খোয়াই নদীসহ হবিগঞ্জের সংকটাপূর্ণ নদীসমূহের দখল দূষনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল। তিনি বলেন, সরকার আসে সরকার যায়, প্রশাসক আসেন প্রশাসন যান কিন্তু খোয়াই নদীর অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণ অব্যাহত থাকায় নদীটিকে আর নদী বলার উপায় নেই। পুরাতন খোয়াই নদী পরিণত হয়েছে ড্রেন বা নালায়। শহরের ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হলো খোয়াই নদী। এছাড়া নদীর মূল অংশ থেকে নির্বিচারে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদীটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হবে এ নদীটি অভিভাবকহীন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সংগঠক ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের অনাচার, অবহেলা ও বর্বরতার শিকার খোয়াই নদী। এটি হবিগঞ্জবাসীর জন্য আত্মহত্যার শামীল। খোয়াই নদীর সাথে হবিগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য এমনকি সভ্যতা জড়িত। এছাড়া এ নদীটি হাওর ব্যবস্থার অন্যতম অংশ। খোয়াই নদীতে ফেলা পলিথিন প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য হাওরের তলদেশে জমা হচ্ছে। মেঘনা হয়ে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষনায় হবিগঞ্জের হাওরের মাছে প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। খোয়াই নদীর দূষণকে কেবল পরিবেশ বা প্রতিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার উপায় নেই; বরং তা জনস্বাস্থ্য ও জীব-বৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকী হয়ে দাড়িয়েছে। আইনের প্রয়োগ, জনসচেতনতা ও জন প্রতিরোধ ছাড়া খোয়াই নদীর অবশিংষ্ঠাংশ থাকবে না।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, প্রাকৃতজন এর পরিচালক আয়েশা আক্তার, পরিবেশকর্মী আব্দুল হান্নান, তানভীর আহমেদ, ইশতিয়াক রহিম, মো: রায়হান, সাইফুল ইসলাম, নাসরিন আলম, নূরজাহান বিভা, তাওহীদ হোসেন তালহা প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com