সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০২৪
  • ২২৪ বা পড়া হয়েছে

এক্সপ্রেস রিপোর্ট ॥ আজ ১০ রমজান। আজকের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাহে রমজানের রহমত দশক শেষ হয়ে মাগফিরাত অর্থাৎ ক্ষমার দশকের সূচনা হবে। এই ১০ রমজানের এক ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ইন্তেকাল করেন হযরত খাদিজা রাদিআল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রথম স্ত্রী এবং তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের অগ্রাভিযানের সূচনা করেন। তিনি ছিলেন সে কালের মশহুর ধনাঢ্য মহিলা। তাঁর বাণিজ্য সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য, ভারতবর্ষসহ চীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর ব্যবসার তত্বাবধায়ক হিসেবে বিভিন্ন দেশ গমন করেন এবং প্রভূত মুনাফা অর্জন করেন। প্রিয় নবীর (সাঃ) অনুপম চরিত্র মাধুর্যে বিমুগ্ধ হয়ে তিনি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পস্তাব পাঠান। তখন তাঁর বয়স ৪০, আর প্রিয় নবীর (সাঃ) বয়স মাত্র পঁচিশ। এই বিয়ের পরেই প্রিয় নবীর (সাঃ) জীবনে নবদিগন্ত সূচিত হয়। প্রিয় নবী (সাঃ) যখন হেরা গুহায় গভীর মুরাকাবায় দিনের পর দিন অতিবাহিত করতেন, তখন তিনি স্বামীর খাবারদাবার নিজে বহন করে সেই দুর্গম গিরিগুহায় পৌঁছে দিতেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দের রমজান মাসের শেষ দশকের কোন এক বেজোড় রাতে, অধিকাংশের মতে ২৭ রমজান রাতে প্রিয় নবীর (সাঃ) নিকট আল্লাহর ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আঃ) প্রথম অহি বহন করে আনেন। সূরা আলাকের প্রথম ৫ খানি আয়াতে কারিমা নাজিল হয়। প্রিয় নবী (সাঃ) কাঁপতে কাঁপতে ভয় শঙ্কিত অবস্থায় গৃহে ফিরে হযরত খাদিজাকে (রাঃ) বলেন, আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। আমার দারুন ভয় করছে। আমি বুঝি হালাক হয়ে যাব। স্ত্রীকে প্রিয় নবী (সাঃ) হেরা গুহার সব কথা শোনালেন। তখন তিনি বললেন, আপনি কোন রকম আশংকা করবেন না। আল্লাহ, আপনার প্রতি রহমত প্রদর্শন করেছেন। আপনি তো দুর্বলের প্রতি দয়া করেন, আত্মীয়দের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন, মেহমানদের খেদমত করেন, মিসকিনদের অভাব, বিমোচনে সহায়তা করেন। যিনি আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের প্রতি এত দরদী তিনি তো তাঁর রহমতেরই পাত্র।
হযরত খাদিজা (রাঃ) তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ ধর্ম শাস্ত্রবিদ। ওরাকা ইবনে নওফালের কাছে তাঁকে নিয়ে যান। ওরাকা সব ঘটনা শুনে সোল্লাসে বললেন, হযরত মুহাম্মদের (সাঃ) নিকট নামুসে আকবর এসেছিলেন। তিনিই জিব্রাইল। তিনিই নবীগণের নিকট অহী নিয়ে আসেন। তিনিই মুসার (আঃ) নিকটও আসতেন। হযরত খাদিজা (রাঃ) ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আপদে বিপদে সর্বক্ষণ প্রিয় নবীর (সাঃ) পাশে থেকে সাহস দিয়েছেন। প্রেম-ভালবাসা, শ্রদ্ধা-ভক্তি, অর্থ-শক্তি ও সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তার ইন্তেকালে প্রিয় নবী (সাঃ) শোকে কাতর হয়ে পড়েন। দাফন কালে প্রিয় নবী (সাঃ) তাঁর কবরে নেমে তাঁর দেহকে শুইয়ে দেন। মক্কার জান্নাতুল মুয়াল্লায় তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com