বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

প্রমীলা নাথ এখন উদ্বাস্থ ॥ অর্থের অভাবে সবজি বা মাছ কিনে তরকারি পাক করে খাবার সামর্থ্য তার নেই

  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২
  • ৩৮৭ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রমীলা নাথ। বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রামের পঞ্চানন্দ নাথের কন্যা। বাবা-মা শখ করে বিয়ে দিয়েছিলেন মৌলভীবাজার। বিয়ের পর সুখেই কাটছিল সংসার। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিবাহিত জীবনে তার কোন সন্তানের জন্ম হয়নি। তার পরও সংসারে এক অদৃশ্য মায়ার টানে দিনযাপন করতে থাকেন। হঠাৎই গত কয়েক বছর আগে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। আর তখনই তার জীবনের মোড় পাল্টে যায়। শুরু হয় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। এ অবস্থায় তার এক ভাই তাকে সৈয়দাবাদে নিয়ে আসেন। এখানে এসেও বিপত্তি ঘটে। ভাইয়ের সংসারে এসে তিনি বোঝা হয়ে দাঁড়ান। প্রায় সময়ই ভাই-বৌ তার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি ভাইয়ের বাড়িও ত্যাগ করেন। হয়ে পড়েন উদ্বাস্থ। এ ব্যাপারে কথা হলে প্রমীলা নাথ জানান, স্বামীর বাড়িতে সুখেই কাটছিল তার সংসার। কয়েক বছর আগে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর পর তার উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কোন সন্তানাদি না থাকায় কেউ প্রতিবাদ করাও নেই তার। বেঁচে নেই মা-বাবাও। তার ৩ ভাই রয়েছে। এদের একজন পৈত্রিক ভিটা সৈয়দাবাদে বাস করে। একজন সিকন্দরপুর ও অপর জনের বাস শ্রীমঙ্গলে। তাদের অবস্থাও ভাল নয়। তারা দিনমজুরী করে সংসার চালায়। এ অবস্থায় সৈয়দাবাদে থাকা তার ভাই তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি ঘটে। ভাই-বৌ’র সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেখান থেকেও তাকে বিতাড়িত হতে হয়। এদিকে হঠাৎ করে স্বামীও মারা যান। তাই তার যাওয়ার আর কোন জায়গা থাকে না। বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেন গ্রামের এক বাড়িতে। সারা দিন ভিক্ষে করেন। দুপুরে কিছু ভাত ফুটিয়ে লবণ দিয়ে খেয়ে দিন পার করেন। সারা দিন আর কিছু খান না। অর্থের অভাবে সবজি বা মাছ কিনে তরকারি পাক করে খাবার সামর্থ্য তার নেই। তাছাড়া দিনের বেলা অবসর সময় পার করতে এবং ভাত ফুটাতে সৈয়দাবাদ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ফিসারীর পাড়ে একটি ঝুপড়ি তৈরী করেছেন। সেখানেই সময় কাটে তার। তিনি আরও জানান, গ্রামের অনেকে এখনো তাকে পাগল বলে প্রায় সময়ই উত্যক্ত করে থাকে। তাছাড়া অর্থের অভাবে তিন বেলা খাবার জুটেনা। দিনে শুধুমাত্র দুপুরে লবণ দিয়ে সাদা ভাত খেয়ে তার দিন কাটে। তার পরও সব সময় খেতে পারেন না। কিছুদিন পূর্বে সরকারি সহায়তা হিসেবে কিছু চাউল পেয়েছিলেন। ওই চাউল দিয়ে তার বেশ কিছু দিন কেটেছে ভাল। লবণ দিয়ে হলেও মুখে খাবার দিতে পেরেছেন। কিন্তু এখন খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বয়সের ভারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষেও করতে পারেন না। তাই অনেক সময় না খেয়েই কাটাতে হয়। তিনি তাকে একটি বয়স্ক ভাতা কার্ড দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুতি জানান। তিনি বলেন, তার আকুতিতে সাবেক মেম্বার ইয়াকুব খাঁ তার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়েছেন। তিনি তাকে বলেছেন, চেষ্টা করে দেখবেন তার জন্য একটি বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়া যায় কি না। কিন্তু বর্তমান মেম্বারের কাছে তিনি বার বার আকুতি জানিয়েও এ ব্যাপারে কোন সদুত্তর পাননি। সৈয়দাবাদ গ্রামের এক মহিলা জানান, প্রমীলা নাথের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিনি তাদের বাড়িতে রাত যাপন করেন। তিনি এক বেলা লবণ দিয়ে সাদা ভাত খেয়ে দিন পার করেন। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত ঝুপড়িতে বসে থাকেন। তবে প্রমীলা খুবই অসহায় উল্লেখ করে তাকে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com