বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

রোটারী ক্লাব অব হবিগঞ্জ খোয়াইয়ের ভাটির দেশে যাত্রা-২ ॥ “তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয় ? গাছের ছায়ায় বনের লতায়, উদাসী বনের বায় ?”

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬
  • ৫৫৫ বা পড়া হয়েছে

আথিতেয়তা প্রিয় বাঙালির এমন চিরায়ত আহ্বান এখন দুর্লভ, হাজার বছরের গ্রামবাংলার সমৃদ্ধ জনজীবন এখন অনেকখানি সঙ্কটাপন্ন। কিন্তু তা হলে কী হবে, নদীমাতৃক বাংলার ভূমিজ সন্তান আমরা। বাংলার জল-কাঁদার প্রতি অমোঘ টান আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভেতর খেলা করে। আর জসীম উদ্দিনের কবিতার মত কেউ যদি আমাদের ‘নিমন্ত্রন’ না-ই করে, তাতে সমস্যা নেই, আমার নিজেরাই তো নিজেদেরকে নিমন্ত্রন করতে পারি, এরপর নিজেদের তাগিদেই গিয়ে হাজির হতে পারি আমাদের প্রিয় স্থানসমূহে। এমনই একটি আনন্দময় ভ্রমন সম্পন্ন হলো গত ৩০ জুলাই। ‘ভাটির দেশে যাত্রা’-২ শিরোনামীয় অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল ‘রোটারী ক্লাব অব হবিগঞ্জ খোয়াই’। এবং সাথে ছিল তাদের অঙ্গ সংগঠন রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব হবিগঞ্জ খোয়াই। যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন সমাজকল্যাণ মূলক কাজের মাধ্যমে শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকেই বিখ্যাত কালারডোবা নৌকাঘাটে তরুন-তরুনী, শিশু-কিশোরদের চাঞ্চল্য। বড়সড় ইঞ্জিনের নৌকাটির ছাদের উপর রঙ-বেরঙের সামিয়ানা টানানো। পুরনো আমলের বরযাত্রী-নৌকার মত মাইকে বাজছে সিনেমার গান। শিশু আর কিশোর-কিশোরীদের কলকাকলি এলাকটিকে মুখরিত করে রেখেছিল। রোটারীয়ানদের বেগম সাহেবাগনের উদ্দিপনা ও ছিল চোখে পড়ার মত। এক সময় শুরু হয় ভাটির দেশে যাত্রা। চারপাশে অপার জলের জগৎ। গন্তব্য উপমহাদেশের বৈষ্ণব (জগন্মোহিনী) সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় পঠিস্থান ‘বিথঙ্গল আখড়া’। কালারডোবা নৌকাঘাট থেকে একাধিক হাওড় পেড়িয়ে দ্বীপের মত গ্রাম বিথঙ্গল। একেকটি হাওড় যেন সমুদ্রের ক্ষুদ্র সংস্করণ। নৌকার ছাদের উপর সামিয়ানার নিচে রেকর্ডে বাজা সিনেমার গানের পাশাপাশি চলছিল ‘যেমন খুশি গাও’ -জাতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর কৌতুক পরিবেশন। ছাদের নিচে চলছিল আড্ডা। একসময় গন্তব্যে হাজির হল জলযান। প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো আখড়ার সামনে বিশাল দিঘী। ‘মামার বাড়ী পদ্ম পুকুর গলায় গলায় জল’ -এ লাইনটি তখন অনেকেরই মনে পড়ে থাকবে। আখড়ার তোরণ পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশের চেয়ে কাজলদিঘীর জলটাই সকলকে আকৃষ্ট করল বেশি। ছোটরা তো বটেই, বড়রাও সংক্ষিপ্ত পোশাকে সঙ্গে নিয়ে আসা ফুটবল নিয়ে নেমে পড়লেন দিঘীর জলে। তরুনীরা, বেগম সাহেবেরা পাড়ে দাড়িয়ে। এটি যাদের সহ্য হল না তারা জল ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিলেন গিন্নিদের। অগত্যা কি আর করা অনেককেই নামতে হল জলে। একসময় শেষ হল স্থানপর্ব। ফাঁকে আখড়া-দর্শন পর্ব, সেলফিপর্ব ও সেরে নিলেন অনেকেই। পেটে তখন অনেকেরই ছুচোর কেত্তন। দ্রুত নৌকায় আরোহন করেই খাদ্যের জন্য প্রতিক্ষা। প্রোগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রোটারীয়ান জসীম উদ্দীন মুরাদের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে সম্পন্ন হল পেটপূজা। মৃদুমন্দ বাতাসে সূর্য তখন ঢলে পড়তে শুরু করছে পশ্চিমাকাশে। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুরু হল র‌্যাফেল ড্র পর্ব। পর্বটি পরিচালনা করলেন ক্লাব সভাপতি শফিউল আজম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডাঃ এস এস আল-আমিন সুমন ও ক্লাব সেক্রেটারী আনোয়ার হোসেন। অনেকের হৃদয় হাস্যোৎফুল্ল করে আর অনেকের হৃদয় ভেঙে সম্পন্ন হল পুরস্কার প্রদান পর্ব। এরপর তো শরীর আর উদ্দীপনা দেখাতে পারে না। সবাই যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত তখনই সকলের ঘ্রানেন্দ্রিয়ে হাওরের বাতাস নিয়ে আসে হাজার বছরের পুরনো ভাটিবাংলার জলের ঘ্রাণ, আকাশে উড়ন্ত পাখিদের কাকলি শুনে শুনে আবার ও কালারডোবা নৌকাঘাট, আবার ও ব্যস্ত নগর জীবনের পানে যাত্রা।
খবর বিজ্ঞপ্তি ॥

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com