স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৩৪। ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত সংরক্ষিত বনাঞ্চল সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং চুরিকৃত গাছ ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এজাহারে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে গাছ কাটা ও চুরির সঙ্গে জড়িত ১২ জন এবং চুরিকৃত গাছ কেনার সঙ্গে জড়িত আরও ৮ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ২০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মারুফ মিয়া (৩০)-কে। তিনি চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এবং দেওরগাছ ইউনিয়নের ময়নাবাদ গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাতছড়ি উদ্যানের সিএমসির সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার এবং মিরাশী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগসহ আরও কয়েকজন। এ ছাড়া গাছ ব্যবসায়ী মুনায়েম, কালা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জসিম, তাহির মিয়া, আব্দুল জলিল মিয়া, রফিক মিয়া, হেলাল মিয়া, মকবুল মিয়া, মাসুম বিল্লাহ, বেলাল, জমরুত ও সোহেলসহ কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে বন ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে একই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ চুরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও ৪২ জনকে আসামি করে পৃথক একটি মামলা করেছে বন বিভাগ। রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা এইচএম এরশাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।