স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক দুবাই প্রবাসী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মামদ আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রবাসীর ছেলে রিমন মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ভাষ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে সদরঘাট দক্ষিণপাড়া গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে গোলাপ মিয়া দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। সম্প্রতি তিনি ও তাঁর ভাই দিলাল মিয়া স্থানীয় নজরুল ইসলামসহ একটি পক্ষের কাছ থেকে চার শতক জায়গা কেনার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামদ আলী প্রবাসী গোলাপ মিয়ার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে গোলাপ মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। রোববার রাতে ভরারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মামদ আলী ফের গোলাপ মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করলে এনিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মামদ আলী, তাঁর দুই ছেলে তারেক মিয়া ও নায়েদ মিয়াসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গোলাপ মিয়া, তাঁর ছেলে রিমন মিয়া ও ভাই দিলাল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এ সময় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে গোলাপ মিয়া, তাঁর ছেলে রিমন মিয়া ও ভাই দিলাল মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামের পথে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মামদ আলী ও তাঁর লোকজন ফের বাধা দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গোলাপ মিয়ার ছেলে রিমন মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।