সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে আহত প্রতিবন্ধী শিশুর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোপার্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রতিবন্ধী শিশু ইমরান মিয়া (৮)। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই তার পরিবার বাধ্য হয়ে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যায়। বর্তমানে বাসার বিছানায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ইমরান। তার পিঠের নিচের অংশ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। পরিবার জানিয়েছে, আজ সোমবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ অক্টোবর রাতে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার অনন্তপুর এলাকার মাওলানা সাদেকুর রহমানের ছেলে ইমরান খেলতে গিয়ে পড়ে টাইলসে লেগে গুরুতর আহত হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগে তার নাম-ঠিকানা লিখে কেবল ব্যান্ডেজ বা সেলাই ছাড়াই মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। রাতভর রক্তক্ষরণ চললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। অবশেষে ঢাকায় থাকা শিশুটির বাবা ফিরে এসে হট্টগোল করলে তার অপারেশন করা হয়। এতে ৩০টিরও বেশি সেলাই দিতে হয়। কিন্তু চিকিৎসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গতকাল তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। শিশুটির বাবার অভিযোগ, তিনি চিকিৎসার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলায় এবং হট্টগোল করায় ঝামেলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ নামেই জরুরি। চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে থাকেন। গুরুতর রোগীদেরও মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এমনকি সামান্য চাপ দিলেই সিলেট বা ঢাকায় রেফার্ডের ভয় দেখানো হয়। শিশু ইমরানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সময় মতো চিকিৎসা পেলে আমার ছেলেকে এত কষ্ট সহ্য করতে হতো না।” একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার সময়ই অপারেশন করা উচিত ছিল। কিন্তু দায়িত্বহীনতায় অল্পের জন্য সে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অবহেলা শুধু চিকিৎসা নীতির পরিপন্থী নয়, এটি মানবাধিকারেরও লংঘন। তারা অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সমাজকর্মীরা মন্তব্য করেছেন, দরিদ্র রোগীদের সঙ্গে এমন আচরণ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে। হাসপাতালের প্রতিটি অনিয়ম ও গাফিলতি গণশুনানির মাধ্যমে উন্মোচন করা জরুরি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com