শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর জশনে জুলুছে লাখো জনতার ঢল সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে হুইপ জি কে গউছ হবিগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস পালিত মাধবপুরে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাঁই ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কে দুর্ঘটনায় যুবক নিহত আশুগঞ্জে ভারতীয় চোরাই শাড়িসহ চুনারুঘাটের দুই যুবক গ্রেফতার নবীগঞ্জের পরিচিত মুখ মারুফ মিয়া আর নেই চুনারুঘাটে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুশে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযান ॥ বিপুল পরিমান এসকাফসহ নারী আটক

নবীগঞ্জের সাংবাদিক জুনাইদের হত্যাকারী বাদশা শ্রীঘরে

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪
  • ৬২৮ বা পড়া হয়েছে

প্রতিনিধি প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জের তরুন সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ হত্যাকান্ডের মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল বুধবার হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে প্রেরন করেন বাদশা মিয়া (২৫) নামের আসামীকে। সে গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। মামলার প্রধান আসামী ফরিদ মিয়া মামলা দায়ের’র পর পরই লন্ডন পালিয়ে যায়।
জানাযায়, ২০১২ইং সালের ১০ জুলাই দিবাগত রাতে নবীগঞ্জের সাতাইহাল গ্রামের তরুন সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ জুনেদ’র ২০ টুকরো করা লাশ শায়েস্তাগঞ্জ রেল ষ্টেশনের অদুরে কলেজ সংলগ্ন স্থানে রেল লাইনের উপর থেকে উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। শুরুতেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রেলের নীচে ফেলে রাখা হয়েছে। ওই দিন বিকালে পেশাগত কাজে হবিগঞ্জে গিয়েছিল জুনেদ। রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাত সাড়ে ১১ টায় স্থানীয় মেম্বার মারাজ মিয়ার সাথে তার শেষবারের মতো মোবাইলে আলাপ হয়। তখন সে বাড়ি ফেরার পথে শায়েস্তাগঞ্জ বৈদ্যারবাজারে আছে বলে জানায়। এর পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ঢাকা-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন ট্রেনের চালক শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ কে জানান একজন ব্যক্তির লাশ রেল লাইনের মাঝ খানে নীচে কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। পরে রেলওয়ে পুলিশ সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ এর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হিসাবে ২০ টুকরো লাশ উদ্ধার করে। লাশের পেন্টের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয় পত্র,স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার পরিচয় পত্র, একটি নোট বুক ও ভিজিটিং কার্ড সুত্র ধরে নিশ্চিত হন এই অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ নবীগঞ্জের তরুন সাংবাদিক জুনাইদের। পরে খবর পেয়ে সাংবাদিক জুনাইদের আত্বীয় স্বজন ও শায়েস্তাগঞ্জ পুলিশ লাশের টুকরো গুলো বস্তাবন্ধি করে হবিগঞ্জ মর্গে নিয়ে যান। সে নবীগঞ্জ উপজেলার সাতাইহাল গ্রামের দক্ষিণ কুর্শা এলাকার ইসমাইল মিয়ার পুত্র এবং নবীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিবিয়ানা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলো। এ ছাড়াও জুনায়েদ আহমেদ নবীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং স্থানীয় গজনাইপুর ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারী ছিলেন। ঘটনার কিছুদিন পর সাতাইহাল গ্রামের ফরিদ মিয়া, বাদশা মিয়া, বালিদারা গ্রামের রুহুল আমীন ও বাহুবলের মন্ডল কাপন গ্রামের আব্দুল হামিদকে আসামী করে নিহত জুনাইদের ভাই মোজাহিদ আহমদ বিজ্ঞ আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি শ্রীমঙ্গল জিআরপি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে পুলিশ আব্দুল হামিদ ও রুহুল আমীনকে গ্রেফতার করে। রুহুল আমীন জামিনে আসলেও আব্দুল হামিদ বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত ফরিদ ও বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফরিদ লন্ডনে ও বাদশা দেশে আত্মগোপনে তাকে। গতকাল বুধবার সকালে হবিগঞ্জের আদালতে হাজির দিলে বিজ্ঞ বিচারক বাদশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া তরুন সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ জুনেদের ঘাতকদের ফাসিঁর দাবীতে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও দিনারপুর পরগনাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com