মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

মাধবপুরে কিশোরী পাপিয়ার মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১৮
  • ৫৩৭ বা পড়া হয়েছে

আবুল হোসেন সবুজ, মাধবপুর থেকে ॥ মাধবপুর উপজেলার বেকুইয়া বাজারের নানা-নানীর আশ্রয়ে থাকা মাতৃহীন অসহায় কিশোরী পাপিয়ার মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। রাত ১টার দিকে কিভাবে ঘর থেকে বের হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কবলে পড়েছে এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। আদৌ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হয়ে মৃত্যু হয়েছে না-কি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এ রহস্য উন্মোচনের কাজ করছে পুলিশ। পাপিয়ার অকাল মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও পাপিয়ার স্বজনরা জানান, ৪/৫ বছর আগে পাপিয়ার মা মারা যাবার পর পিতা ছত্তর মিয়া ২য় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। এতে করে পাপিয়া অসহায় হয়ে পড়ে। ঠাঁই হয় নানা-নানীর কাছে। নানা নানী তেলিয়াপাড়া বেকুইয়া বাজারে একটি ভাঙ্গা ঘরে পাপিয়াকে নিয়ে বসবাস করত। সারা দিন নানা-নানী ভিক্ষা বৃত্তি করে জীবন চালাত। এরই মধ্যে পাপিয়ার বয়স ১৫ বছর উন্নীত হলে এলাকার উঠতি বয়সের মাদকাসক্ত কিছু যুবক পাপিয়ার পিছু নেয়। ভাঙ্গা ঘরে গিয়ে প্রতিদিনই হানা দিত এসব বখাটে যুবকেরা। বয়স্ক নানা নানীর বাধা দিয়েও প্রভাবশালীদের রুখতে পারত না। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে দেন দরবার হয়েছে। গত ১৩ই মে মধ্য রাতে বাড়ির নিকট পাপিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে প্রচার করা হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সকালে পাপিয়াকে মাধবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার পাপিয়াকে রেফার করেন। কিন্তু বৃদ্ধ ভিক্ষুক নানীর পক্ষে পাপিয়ার উন্নত চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা পাপিয়াকে বাড়িতে নিয়ে যায়। অবশেষে ১৫ই মে রাতে পাপিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া ফাঁড়ি পুলিশ ১৬ই মে সকালে পাপিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাত প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্তু শেষে ১৭ই মে পাপিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মাধবপুর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন জানান, পাপিয়ার কপালে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল এবং তার পেট ফুলে ছিল। তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ান রমজান আলী জানান ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত কাওছার আলম জানান, সব কিছু মাথায় রেখেই মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com