সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

বীর বিক্রম আব্দুর রহমান আর নেই

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১৮
  • ৬০৫ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলার ৭১ এর সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম হাবিলদার আব্দুর রহমান (৮০) আর নেই। আজ সোমবার সকালে বড়ধলিয়া তার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি……রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ আসর জগদীশপুর তেমুনিয়ায় জানাযা শেষে সিলেট সেনানিবাসের লেঃ আবরার এর নেতৃত্বে ২২ সদস্যের সেনাসদস্যরা তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তারেক মুহাম্মদ জাকারিয়া ও মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বড়ধলিয়া গ্রামে জামে মসজিদের পাশে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তার মৃত্যুতে সংসদ সদস্য এড. মাহবুব আলী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মেজন জেনারেল হেলাল মুর্শেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা ক্যাপ্টেন অবঃ কাজী কবির উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠান, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মালেক মধু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা নিজামুল হক রানা প্রমুখ শোক ও মরহুম পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বীর বিক্রম আব্দুর রহমান মাধবপুর উপজেলার বড়ধলিয়া গ্রামে ১৯৩৭ সালে ১২ মে জন্ম গ্রহণ করেন। ৬ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ট। জগদীশপুর জেসি হাইস্কুলে অধ্যয়নকালে ১৯৫৮ সালে তিনি সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লা সেনানিবাসে প্রথম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে তিনি লাহুরের বিডিয়া সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এসে যশোহর সেনানিবাসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তেলিয়াপাড়া বাঁশ বাড়িতে প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন দেন। ১৯৭১ সালের ৬ মে তেলিয়াপাড়া হেড কোয়াটারে একটি শক্তিশালী আক্রমণ রচনা করে। ওই যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এসময় তাকেও পাক সৈন্যরা ধরতে এগিয়ে আসেন। তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে কয়েকজন পাক সেনাকে হত্যা করে। এ অবস্থায় তার উপর শক্রপক্ষ বহুগোলা নিক্ষেপ করে। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে একটি মেশিন গান দিয়ে বেপরোয়াভাবে পাক সৈন্যদের উপর গোলাবর্ষন করতে থাকে। তার এই গোলা বর্ষনে প্রায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়। পাক বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৭ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে অবসরের পর জীবিকার তিনি সাতছড়ি চা বাগানে “নো ওয়ার্ক নো পে” ভিত্তিতে প্রহরীর কাজ করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বীর বিক্রমের ভাতা ভোগী হন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com