বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিজিবি সদস্য সুমন

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭
  • ৬৪৩ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে তিস্তা নদীতে চোরাকারবারিকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিখোঁজ বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়ার লাশ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় নিজবাড়ী হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে জানাজার নামাজ শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। জানাজায় বিজিবি সদস্য ছাড়াও হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক, পইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মইনুল হক আরিফ, গোপায়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার দিকে বিজির একটি দল লাশ নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে পৌছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্ত্রী, সৎ মা ও স্বজনসহ এলাকাবাসীর আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
বুধবার সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিস্তা নদীর কোচবিহার-১৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের তরুণা ক্যাম্পের সদস্যরা নিখোঁজ সুমন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন। দুপুর ৩টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের তিনবিঘা কোম্পানি কমান্ডার এসি বিনোদ রাজা লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাটগ্রাম কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শেখ সুজাউল ইসলামের কাছে সুমন মিয়ার মরদেহ ভারতীয় দরুণা ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন।
পরে স্পিড বোডে করে সুমন মিয়ার মরদেহ তি¯-া ব্যারাজে নিয়ে আসা হয়। পরে মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই রাতে হিমঘরে রাখা হয় সুমন মিয়ার মরদেহ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে এসে পৌছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দহগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টহল দল দহগ্রাম সীমান্তের ৬ নম্বর মেইন পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলার এলাকায় তিস্তা নদীতে আবুলের চর যান। ল্যান্স নায়েক টুটুল মিয়া, ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া ও সিপাহী উ”চ প্র” মারমা ওই টহল টিমে ছিলেন। আবুলের চর এলাকায় তিস্তা নদীর কিনারে গরু চোরাকারবারিদের সঙ্গে গরু টানাটানির এক পর্যায়ে টুটুল মিয়াকে নদীতে নামানো হয়। এক পর্যায়ে চোরাকারবারিরা গরুর রশি ছেড়ে দিলে দুটি গরুসহ কোনো রকমে চরে ফিরে আসেন টুটুল মিয়া। এদিকে টুটুল মিয়া তলিয়ে যাচ্ছে ভেবে তাকে উদ্ধারের জন্য রাইফেল ও গোলাবারুদ উচ্চ  প্র“ মারমার হাতে জমা দিয়ে সুমন তিস্তা নদীতে নামেন। পরে তিনি সেখানেই নিখোঁজ হন।
নিহত সুমন ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিজিবিতে যোগদান করে এবং ২০০৮ সালে চুনারুঘাট উপজেলার গাতাবলা গ্রামের প্রবাসী আবুল ফজল মিয়ার মেয়ে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তার দাম্পত্য জীবন সুখেই ছিল।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com