সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

হবিগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর দালালের খপ্পরে পড়ে মা-সহ দু’নবাজাতকের প্রাণ গেল

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৬৭৭ বা পড়া হয়েছে
HITACHI Digital Camera

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দালালের খপ্পরে পড়ে পৃথিবীর আলো দেখতে পারলনা দুই নবাজাতক। ভুল চিকিৎসায় মা নাসিমা বেগম (২২) এর সাথে জীবন দিতে হল তাদের। শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার হবিগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটাল লিমিটেডে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। তবে এ নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মৃত নাসিমা বেগমের দরিদ্র স্বামী রিকশা চালক ছায়েদ মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার স্ত্রী অন্তঃস্বত্তা হয়। গত শনিবার বিকাল ৪টার দিকে তার প্রসব ব্যথা শুরু হলে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাসিমাকে দেখে ডাক্তার আলট্রাস্নো করার পরামর্শ দেন। পরীক্ষায় দেখা যায় নাসিমার গর্ভে জমজ বাচ্চা রয়েছে। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার তাকে সিজার করাতে বলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি সিজার করাতে না পেরে মানসিকভাবে সে ভেঙ্গে পড়ে। এক পর্যায়ে গত রবিবার সকালে ছায়েদ মিয়া অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে সদর হাসপাতালে আসে। এ সময় পরিচয় হয় আলোচিত হবিগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটাল লিমিটেডের নিয়োজিত দুই রিকশা চালক দালাল মানিক ও শহীদের সাথে। তারা দুইজন ছায়েদ মিয়াকে জানায়, কম টাকার বিনিময়ে হসপিটাল লিমিটেডে তার স্ত্রীর সিজার করিয়ে দিতে পারবে। সব মিলিয়ে মোট ৭ হাজার টাকা খরচ হবে। দরিদ্র ছায়েদ কম টাকার প্রস্তাব পেয়ে দালাল সহিদ ও মানিকের ফাঁদে পা দেয়। ওইদিনই নাসিমাকে হবিগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটাল লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। সেখানে নেয়ার পর পরিচালক আবুল কাশেম নাসিমাকে সিজার করানোর জন্য অপারেশন রোমে পাঠান। শুরু হয় নাসিমার অপারেশন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ডাক্তার নাসিমার পেট থেকে নবজাতক দুইজনকে বের করতে পারেননি। এ সময় জোরাজুরি করতে গিয়ে এক নবজাতককে নাসিমার পেটে রেখে অপর নবজাতককে কেটে বের করেন তারা। এ সময় এক নবজাতক মারা যায় এবং নাসিমার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তড়িগড়ি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাসিমাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু চুক্তির ৭ হাজার টাকা দিয়ে যেতে বলা হয়। অনেক চেষ্টার পর ৩ হাজার টাকা হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে নাসিমাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় ছায়েদ মিয়া। সেখানে ডাক্তাররা ওইদিনই নাসিমার পেট থেকে অপর নবজাতককে মৃত অবস্থায় বের করেন। এক পর্যায়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বুধবার রাত ১টার দিকে নাসিমা মারা যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে দুই মৃত নবজাতকসহ নাসিমাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় রিকশা চালক ছায়েদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আড়াই বছরের শিশু লিজাকে নিয়ে ছায়েদ ও তার পরিবারে চলছে মাতম। সে এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেবে বলে এ প্রতিবেদককে জানায়। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ হসপিটালের পরিচালক আবুল কাসেম জানান, গাইনী বিশেষজ্ঞ রাজিয়া সুলতানাকে দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের পর তার অবস্থার অবনতি হলে ওই ডাক্তার তাকে সিলেট প্রেরণ করেন। চিকিৎসায় কোন ভুল হয়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com