স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাটে হত্যা মামলার আসামিদের আইনি সুবিধা দিতে যোগসাজশের মাধ্যমে এক নারীর মৃত্যুকে “স্বাভাবিক মৃত্যু” উল্লেখ করে মৃত্যু সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুন্দরপুর গ্রামের মো. নূরুল হক বাদী হয়ে হবিগঞ্জের আমল গ্রহণকারী আদালত-০২-এ একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৬৭/১৯৭/২১৮/১২০(খ)/৪৬৩/৪৬৪/৪৬৬/৩৪ ধারা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী নূরুল হকের মেয়ে মোছা. ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে ৩ নম্বর আসামি সুজন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ৪ থেকে ৯ নম্বর আসামির প্ররোচনায় ফাহিমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন বাদী। তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং স্বামীকে অন্যত্র বিয়ে করানোর হুমকি দেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩ থেকে ৯ নম্বর আসামি ফাহিমা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। খবর পেয়ে বাদী মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাদী আদালতে ৩ থেকে ৯ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০২/২০১/১১৪/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, হত্যা মামলার বিষয়টি জানার পর গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কুতুবুল ইসলাম ৩ থেকে ৯ নম্বর আসামির সঙ্গে যোগসাজশ করে ফাহিমা খাতুনের মৃত্যুর কারণ ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ উল্লেখ করে একটি মৃত্যু সনদ প্রস্তুত ও প্রদান করেন। ওই সনদে চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ফাহিমার মৃত্যু অস্বাভাবিক হলেও সরকারি নথিতে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ উল্লেখ করে সনদ দেওয়ার মাধ্যমে হত্যা মামলাটিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্টদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং হত্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি পদে থাকা ১ ও ২ নম্বর আসামি তাদের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩ থেকে ৯ নম্বর আসামির সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। এর মাধ্যমে হত্যা মামলার আলামত ও তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
বাদী নূরুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পাননি। পরে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।