মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চান হবিগঞ্জের কাজী আব্দুল মতিন

  • আপডেট টাইম বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৬৯ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধ কারে সম্মুখ সমরের যোদ্ধা কাজী আব্দুল মতিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চান। তার বড় দুই ভাই কাজী আবু মিয়া সেনা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং মেজো ভাই কাজী মৌলদ হোসেন পুলিশে চাকুরী করেন। ১৯৭১ সনে যুদ্ধ শুরু হলে তার দুই ভাই স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেন। ভাইদের পদাঙ্ক অনুস্বরণ করে কাজী আব্দুল মতিন দেশ প্রেমে উদ্ধুব্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগ করেন।
তার বীরত্বে স্বীকৃতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ৪নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল সি আর দত্ত এবং যার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান লিখিত প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন। নয় মাস যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাঁদতে শুরু করেন কাজী মতিন। তার সহকর্মীরা মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র পেলেও তিনি আজও সনদের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সনদও পাচ্ছেন, ভাতাও পাচ্ছেন না।
কাজী মতিনের ৭ সদস্যের সংসার চলে পেনশনের মাত্র ৯ হাজার টাকায়। ওই টাকা দিয়ে সংসারের লাগাম টানতে পারছেন না মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিন। মাথায় দারিদ্রতার বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
যুদ্ধকালীন মেজর জেনারেল আজিজুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মশাজানের কাজী আব্দুল মতিন আমাদের দলে ৯ মাস বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছেন। তিনি বলেন, কাজী আব্দুল মতিন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই আমি তাকে লিখিত প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি, যা তার সনদপত্র প্রাপ্তিতে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের মশাজান গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মুক্তি যোদ্ধা কাজী আব্দুল মতিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর ভারতের আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে ক্যাপ্টেন আজিজুর রহমানের দলে যুদ্ধে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ৯মাস জেলার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে যুদ্ধ করেন তিনি।
যুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে কাজী আব্দুল মতিন বলেন, চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা পাহাড়ের বালুতুফা নামক এলাকায় ২০/২৫ জনের পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করি। এ যুদ্ধে মোঃ রমিজ আলী নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন এবং এক পাক সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হলে সেখান থেকে পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। হবিগঞ্জ শহরে টি এন্ড টি অফিসে পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্প স্থাপন করে। উক্ত ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৬ হানাদারকে হত্যা করি। এ ছাড়া ১২ রাজাকার ও শান্তি বাহিনীর সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করি।
আব্দুল মতিন জানান, দেশ স্বাধীনের পর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পরে অবসরে যান। অবসর নেয়ার পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি লাভের আসায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে ২০১১ সালে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলে কাজের কাজ কিছুই হয় নি। ২০২২ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা অফিসে (জামুকা) সনদপত্রের দাবিতে আবারো আবেদন জানান। তিনি তার কাঙ্খিত দাবী পূরণের আশার প্রহর গুনছে এখনো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com