সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

কাঁকতাড়ুয়া ॥ বিজ্ঞানের যোগেও সক্রিয়

  • আপডেট টাইম বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ৫৪৪ বা পড়া হয়েছে

জালাল উদ্দিন রুমী ॥ দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ। সোনালী ধানে সোনার হাসি কৃষকের মুখে। যে কোন সবুজ ফসল আর সোনালী ধানে কৃষকের জন্য কাঁকতাড়ুয়া আশির্বাদ। শায়েস্তাগঞ্জে ধান কাটা চলছে। আবারও কোন কোন জমিতে ধান বের হলেও এখনো পাকেনি। এসব ধানে ভরা ফসলি জমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন অতন্দ্র প্রহরী।
কোথাও কোথাও মাটির হাঁড়ির পেছনে কাঁচা হাতে আকা বাকা চোখ, মুখ ও নাক, হাড়িকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাথা হিসেবে। আবার কোথাও কোথাও লাটির উপরে পড়ানো হয়েছে শার্ট, পাঞ্জাবি। এদের আবার হাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে খড়ের পুত্তলী। হাত আছে, পা আছে, গায়ে আছে জামাও। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একজন আপাদমস্তক একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু কাছে না আসলে বুঝা যাবেনা এর আসল কাহিনী। এরই নাম কাকতাড়ুয়া। কাঁচা পাকা ধান ও ফসলি জমিকে ক্ষতিকারক পশুপাখি ও পোকা মাকড়েঁর হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই জমিতে জমিতে একটি কাঁকতাড়ুয়া স্থাপন করেছেন কৃষক।
জানা যায়, কাকতাড়ুয়ার প্রচলন বহু বছর আগ থেকে, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও এর ব্যবহার শেষ হয়ে যায়নি। আবহমান গ্রাম বাংলার কৃষকরা জমির ফসল পাখি, ইদুর, গুইসাপ, কাক, চিল অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই অবিনম এই পন্থা ব্যবহার করে আসছিলেন।
মফস্বলে এই কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। শায়েস্তাগঞ্জ অঞ্চলের বেশিরভাগ জমিতেই স্থাপন করা হয়েছে কাকতাড়ুয়া। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে ফসল রক্ষা করতে ফসলের বুকে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এই কাকতাড়ুয়া। কাকতাড়ুয়ার ইতিহাস ঐতিহ্য কোন অংশেই কম নয়। কাকতাড়ুয়া স্থান পেয়েছে গল্প নাটক, উপন্যাস আর কবিতায়, স্থান পেয়েছে শিল্পীর রঙ তুলির আচঁড়ে।
এই কাকতাড়ুয়ার কদর একজন কৃষকের কাছে অনেক বেশী। উপজেলার কৃষক ইদ্রিস মিয়া জানান, কাকতাড়ুয়া দেখলে পোকামাকড় ভয় পায়, এটি বানিয়ে জমিতে লাগানো আমাদের পুর্বপুরুষরা পথ দেখিয়ে গেছেন। কাকতাড়ুয়ার জন্য ফসল অনেক ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
বিরামচর গ্রামের কৃষক আব্দুল সমদ জানান, কাকতাড়ুয়া স্থাপন করতে তেমন কোন খরচ নেই, কাকতাড়ুয়া বলতে পারেন, কৃষকদের বন্ধু। কাচা পাকা ফসল কীটপতঙ্গ এর হাতে থেকে রক্ষা করার জন্য এর অবদান অনেক।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর জানান, আসলে কাকতাড়ুয়া গ্রাম বাংলার একটি প্রাচীন সংস্কৃতি। সরকারিভাবে কৃষি জমিতে কাকতাড়ুয়ার দেয়ার জন্য তেমন কোন নির্দেশনা নেই। আমার জানামতে, কাকতাড়ুয়া সম্পর্কে মানুষ কিছুটা কুসংস্কার ধারণ করে, যে কাকতাড়ুয়া দিলে ফসলের দিকে কারো নজর পড়বে না, ফসল ভাল হবে। আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোন ব্যাখ্যাও নেই। তবে জমিতে যখন ধান পাকে, তখন বিভিন্ন পাখিরা ধান খেতে আসে। কিন্তু কাকতাড়ুয়াকে মানুষ মনে করে এরা উড়ে চলে যায়। এভাবে কাকতাড়ুয়ার কারণে কৃষকগণ উপকৃত হয়ে থাকেন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য স্থান দখল করে আছে এই কাকতাড়ুয়া। শিল্প ও সাহিত্যের অন্যতম অনু সংঘ, গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ কৃষকের কাকতাড়ুয়া যেন আমাদেরই প্রতিনিধি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com