সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

বাহুবলে শিশু ছাত্রী নাঈমা হত্যাকাণ্ড ১০ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
  • ৫৩৩ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ বাহুবলে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী নাঈমা হত্যাকাণ্ডের ১০দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলা গ্রহণে টালবাহানা করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ছাত্র-জনতা একাধিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় পুলিশ ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে। সে উপজেলার সোয়াইয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়ার কন্যা। নিহত নাঈমার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ মর্গে প্রেরণ করলে সুরতহাল রিপোর্টে লাশের শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন উল্লেখ না থাকায় ডাক্তাররা ময়না তদন্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে ডাক্তার ও পুলিশের রশি টানাটানিতে লাশ ৩ দিন মর্গে পড়ে থাকে। পরে ১২ আগস্ট হবিগঞ্জের সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপে ৫ ডাক্তারের বোর্ড শিশু নাঈমার মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে।
উপজেলার সোয়াইয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্রী নাঈমা আক্তার শামীমা গত ৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে খালের কাছে কচুরিপানায় ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন ১০ আগস্ট পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেন। পুলিশ ছুরতহালে লাশের গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই বলে উল্লেখ করে। কিন্তু মর্গে ময়না তদন্ত করতে গিয়ে লাশের গলা ও পেটে আঘাতের চিহ্ন দেখে থমকে দাঁড়ান হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. বজলুর রহমান ও ডা. দেবাশীষ দাস। আটকে যায় ময়না তদন্ত প্রক্রিয়া। পরে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরীর হস্তক্ষেপে ১২ আগস্ট ৫ ডাক্তারের বোর্ড শিশু নাঈমার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে।
এদিকে, পুলিশ শিশু নাঈমা হত্যা মামলা গ্রহণে টালবাহানা করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় সোয়াইয়া বাজারে সোয়াইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক এবং অপরাহ্নে বাহুবল উপজেলা সদরে সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে পৃথক দু’টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিগুলোতে বক্তারা, মামলা গ্রহণ না করায় পুলিশি ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। অবিলম্বে নিষ্পাপ শিশু নাঈমা হত্যা মামলা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, অন্যথায় উপজেলার সকাল ছাত্র-জনতা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এদিকে, নিহত নাঈমার পিতা ফরিদ মিয়া গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, আমার মেয়ের লাশের ময়না তদন্ত নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে পঁচা গলা লাশ আমার হাতে তোলে দেয়া হয়। দাফন শেষে ১৪ আগস্ট আমি আমার স্বজনদের নিয়ে বাহুবল থানায় এজাহার নিয়ে হাজির হই। এ সময় পুলিশ এজাহার পরিবর্তনের কথা বলে ফিরিয়ে দেয়। এরপর বার বার এজাহার পরিবর্তন করে দেয়ার পরও তারা মামলা নেয়নি। পুলিশের টালবাহানার কারণে ১০ দিনেও আমার শিশু কন্যা হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি।
মামলা গ্রহণ না করার কারণ জানতে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল হক-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলা গ্রহণ না করার বিষয়টি সঠিক নয়। নিহতের পিতাসহ স্বজনদের বলেছি-সুরতহাল রিপোর্টের সাথে সঙ্গতি রেখে এজাহার দেয়ার জন্য। সেভাবে এজাহার নিয়ে আসলে অবশ্যই মামলা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com