শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

ইমাম পরিবর্তন নিয়ে বিরোধের জের ॥ বাহুবলে ফের সংঘের্ষ লন্ডন প্রবাসীসহ ২ জন নিহত

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৭
  • ৭৪২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবলের মুগকান্দি গ্রামে মসজিদের কমিটি গঠন ও ইমাম পরিবর্তন নিয়ে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে লন্ডন প্রবাসীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২৫ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। গতকাল শনিবার ফজরের নামাজের পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছিল।
সংঘর্ষে নিহতরা হলেন, পূর্ব মুগকান্দি গ্রামের লন্ডনী বাড়ীর ছাবু মিয়ার ছেলে লন্ডন প্রবাসী কবির মিয়া (৪৫) এবং আখঞ্জি বাড়ীর পক্ষের মৃত মুসলিম মিয়ার ছেলে মতিন মিয়া (৫০)। এর মধ্যে কবির মিয়া ঘটনাস্থলে এবং মতিন মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মুগকান্দি জামে মসজিদের কমিটি গঠন ও ইমাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষ বর্তমান ইমাম ফরিদ আখঞ্জীর পরিবর্তন চায়। অপর পক্ষ ওই ইমামের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় শুক্রবার জুম্মার নামাজে সাতকাপন ইউপি চেয়ারম্যান মুগকান্দি গ্রামের আবদাল মিয়া আখঞ্জী পক্ষের সোহেল মিয়ার সাথে একই গ্রামের শফিক মাস্টারের বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে বাদ জুম্মা উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিনিয়র এসএসপি রাসেলুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলিছুড়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রায় দু’ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।
পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বিষয়টি মিমাংসার জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি উভয় পক্ষকে শুক্রবার রাতে অফিসে আসার আহবান জানালে লন্ডনী বাড়ীর পক্ষ উপস্থিত হলেও আখঞ্জি বাড়ীর পক্ষ আসেনি। রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উভয় পক্ষের ৮জনকে আটক করে।
এদিকে শুক্রবারের সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর উভয় পক্ষ আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ১শ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২৫ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। ঘণ্টাব্যাপি সংঘর্ষে লন্ডনী বাড়ির পক্ষের লন্ডন প্রবাসী কবির মিয়া (৪৫) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হয় উভয় পক্ষের শতাধিক লোক। গুরুতর আহত আখঞ্জি বাড়ির পক্ষের মতিন মিয়া (৫০)কে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে মারা যান।
এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই জানান, মসজিদের ইমাম নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিষয়টি মিমংসার উদ্যোগ নেই। কিন্তু আমার উদ্যোগে সাড়া না দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে ১০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২৫ রাউন্ড কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে অন্যান্য আহতদের মাঝে ফরিদ মিয়া তালুকদারের পুত্র আজাদ (২৬), মৃত আপ্তান মিয়ার পুত্র সুহেল মিয়া (৩০), মৃত আমির হোসেন আখঞ্জীর পুত্র সেলিম আখঞ্জী (৩০), আব্দুল আউয়াল ফটিকের পুত্র মহিবুর রহমান (২৫), মৃত সিকান্দর উল্লার পুত্র সমাই মিয়া (৩৫), মৃত ছন্দু মিয়ার পুত্র রুনু মিয়া (৫০), আব্বাস উদ্দিনের পুত্র সানু মিয়া (৬০), মৃত আমির হোসেনের পুত্র সিজিল মিয়া (২৮), কাছন মিয়ার পুত্র নূর উদ্দিন (১৮), সুলতান মিয়ার পুত্র নূর মিয়া (৬০), আব্দুল সোবহানের পুত্র আরশ মিয়া আখঞ্জী (৫৫), উস্তার মিয়ার পুত্র তোফায়েল (২৫), হাজী ছন্দু মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়া (৩৫), সমাই মিয়ার পুত্র রুবেল (১৮), মৃত সিকান্দর উল্লার পুত্র কাছন মিয়া (৫০), আরজ মিয়ার পুত্র সুজন আখঞ্জী (২৭), কাপ্তান মিয়া আখঞ্জীর পুত্র সোহান আখঞ্জী (২২), সুলতান মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর মিয়া (৬০), সানু মিয়ার পুত্র জাহিদ মিয়া (২৮), মৃত মতির মিয়ার পুত্র মমিন মিয়া (২৭), মৃত আবিদ আলীর পুত্র জুনাব আলী (৫০), রুনু মিয়ার পুত্র রাজিব (১৩) ও রাফিন (১৫), মোজাম্মেল উদ্দিনের পুত্র মোঃ জসিম (৩৮), জাহাঙ্গীর আখঞ্জীর পুত্র মোছাব্বির আখঞ্জী (২০), কুরুশ মিয়ার পুত্র রাজন মিয়া (২২), ফুল মিয়ার পুত্র আনোয়ার মিয়া (৫৫), এএসআই সুহেল শাহ (৩৩), কনস্টেবল জাহিদ খান (২৬) ও আনোয়ার হোসেন (২০)কে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com