বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে নারী পাচারে সক্রিয় মাধবপুরের একটি চক্র জড়িত গ্রামপুলিশ গ্রেফতার

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৬
  • ৫৮৩ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ গৃহ কর্মীর চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে যৌন কর্মী হিসেবে মাধবপুরের নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচারে সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র। প্রায় ২০ জন নারী এরই মধ্যে এ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে দেশত্যাগ করে যৌন নিপীড়ন সহ নানা নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, গত সোমবার নারী পাচারকারী চক্রের হোতা গ্রাম পুলিশ রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে এখন হবিগঞ্জ কারাগারে আটক আছে।
সূত্র জানায়, সৌদি আরব সহ বিভিন্ন স্থানে পাচার হওয়া নারীরা সেখানে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই দেশে ফিরতে চান। কিন্তু ফিরতে পারছে না। স্বজনদের কাছে তাদের নির্যাতনের কথা জানালে তাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবে পাচার হওয়া উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বরগ গ্রামের মিয়ার আলীর মেয়ে জুমেনা খাতুনকে অধিক বেতনে গৃহকর্মীর চাকরীর প্রলোভন দিয়ে চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুলাপুর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে গ্রামপুলিশ রফিকুল ইসলাম গত মে মাসে সৌদি আরবে পাঠায়। সেখানে জুমেনা খাতুনকে গৃহকর্মীর বদলে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। অব্যাহত নির্যাতনের ফলে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে সৌদি আরব ফেরত এক নারী দেশে এসে মতুর্জ আলীকে তার মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আকুতি জানায়। সে দেশে কিভাবে মেয়েরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে এর লোমহর্ষক বিবরণ দেয়। মিয়ার আলী দালাল রফিকের সঙ্গে নির্যাতিত মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বললে তার সহযোগিতা চায়। কিন্তু রফিকুল ইসলাম এতে কোন কর্ণপাত করেনি। পরে সোমবার মাধবপুর থানায় রফিকুল ইসলাম সহ তার অপর দুই সহযোগির বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করলে পুলিশ তুলশীপুর বাজার থেকে রফিকুলকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। চৌমুহনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপন মিয়া জানান, গ্রাম পুলিশ প্রায় ৬ মাস ধরে অফিসে আসে না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন সে নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। রফিকুল ইসলাম থানায় স্বীকার করেন তার মাধ্যমে সৌদি সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দেশ থেকে নারী গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে। সেখানে কি হয়েছে তা তিনি জানেন না। মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, রফিকুল ইসলাম নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য। তাকে জিজ্ঞাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জুমেনা খাতুনের বাবা মিয়ার আলী জানান, অনেক কষ্ট করে মেয়ের সুখের জন্য রফিকের প্ররোচনায় মেয়েকে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে পা্িঠয়েছিলাম। এখন তার কোন খোঁজ খবরই পাচ্ছি না। এ নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছি। সূত্র জানায় পাচারকারী চক্র ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েদের গৃহকর্মীর প্রলোভন দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com