মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

তিন দিনের বৃষ্টিতে ইটভাটার শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৬
  • ৬৩১ বা পড়া হয়েছে

কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ তিন দিন ধরে হালকা বৃষ্টির পর শনিবার ও রবিবার থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। কার্তিকের শেষ দিকে অনাকাঙ্কিত এ বৃষ্টিতে হবিগঞ্জে প্রায় ৬৭টি ইটভাটার কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় নাডার প্রভাবে হঠাৎ বৃষ্টিতে ইটভাটার এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার থেকেই থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। শনিবার দুপুর থেকে তা রূপ নেয় ভারি বর্ষণে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কার্তিকের শেষ দিকে এমন ভারি বর্ষণ হবে, এটা হয়ত অনেকেরই মাথায় আসেনি। ফলে এর জন্য বড় ধরনেরই খেসারত দিতে হচ্ছে ইট ব্যবসায়ীদের। রবিবার বিকাল পর্যন্ত নবীগঞ্জে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ইট তৈরির মৌসুমের শুরুতেই বৈরি আবহাওয়ার কারণে মালিক ও শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। তারা জানান, প্রত্যেক মৌসুমে এসব ভাটায় কয়েক দফায় ইট তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ভাটায় বছরে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ ইট তৈরি হয়। অধিকাংশ ইট ভাটায় প্রথম দফায় ইট তৈরি করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এক হাজার ইট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ছয় হাজার টাকা এবং এক লাখ ইট তৈরিতে খরচ প্রায় ৬লক্ষ টাকা। বেশ কয়েকদিন ধরে ভাটা মালিকরা কাঁচা ইট তৈরি করে রোদে শুকিয়ে তা পুড়িয়ে পাকা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তিন দিনের বৃষ্টির কারণে পানিতে ভিজে সদ্য তৈরি কাঁচা ইট ভেঙে নষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় ৬৭টি ইটভাটা মালিকের প্রায় ৮০/৮৫ লাখ কাঁচা ইট ধ্বংস হয়ে গেছে।
নবীগঞ্জ বাংলার বাজার গোল্ড ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার ওয়াহিদ আহমেদ জানান, তিন দিনের বৃষ্টিতে কাঁচা ইটের ভীষণ ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি এই মৌসুমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। কয়েকদিন আগে তৈরি করা ইট রোদে শুকানো হচ্ছিল। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে ইটগুলো গলে মাটিতে মিশে গেছে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসহ মাঠ পরিস্কার করতে অতিরিক্ত অনেক টাকা খরচ হবে।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রায় ১৫টি ইটভাটার প্রায় ত্রিশ লক্ষ ইট পোড়ানোর অপেক্ষায় রাখা কাঁচা ইট বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ইটভাটা মালিকদের ইট পোড়ানোর কাজ আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নতুন করে এ বছর ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করতে পারবেন না। এতে এ বছর ইটের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইটের সংকট দেখা দিতে পারে।
হবিগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান বলেন, আকস্মিক বৃষ্টিতে ইটভাটা মালিকদের চরম ক্ষতি হয়েছে।
হবিগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোতাব্বির হোসেন বলেন, এমনিতে নানা কারণে ইটের ব্যবসা এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। অকাল ভারি বর্ষণে হবিগঞ্জ জেলায় ইটভাটার প্রায় ৮০/৮৫ লক্ষ কাচাঁ ইটের ক্ষতি হয়েছে। নানা উপকরণ মূল্য ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বাজারে এই ক্ষতি পুষিয়ে অনেকের পক্ষে ইট উৎপাদনে ফিরে আসা দূরুহ হয়ে পড়বে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com