বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

হবিগঞ্জবাসী আজও জানেনা এ স্তম্ভটি কি?

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০১৪
  • ৬২৬ বা পড়া হয়েছে

বরুন সিকদার ॥ হবিগঞ্জ শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব গবেষণা ও যাদুঘরের পাশে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি এখন আর প্রশাসন গ্রহণ করছে না। ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মানে সময় লেগেছে ৫ বছরেরও বেশী। ২০১২ সালে নির্মান কাজ শেষ হলেও প্রশাসন এটিকে গ্রহণ না করায় স্তম্ভটি এখন অনেকটা বেওয়ারিশের মতো ঠায় দাড়িয়ে আছে। জানা যায়, ২০০৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম তালুকদারের পরামর্শে জেনারেল রব গবেষণা কেন্দ্রের পাশে পুরাতন খোয়াই নদীর ১০ শতক ভূমি ভরাট করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২১ ফেব্র“য়ারী সরকরি বৃন্দাবন কলেজে পুষ্পস্তবক প্রক্রিয়াটি তার মনোঃপুত হয়নি। তাছাড়া জেলা প্রশাসককে সবার আগে ফুল দিতে না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বছরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। যার ফলশ্র“তিতে জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ ১৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। কিন্তু এতে সময় লেগেছে ৫ বছরেরও বেশী। শহীদ মিনারটি তৈরীতে ঠিকাদার ছিলেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার রথীন্দ্র চন্দ্র রায়। ২০১২ সালে শহীদ মিনারের তৈরীর কাজ সমাপ্ত হলেও তা ব্যবহারের জন্যে আজোও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ সময় ধরে অতিবাহিত হলেও ব্যবহারের জন্যে কেন খুলে দেয়া হচ্ছে না, এ সম্পর্কে যানা নেই জেলা পরিষদের দায়িত্বরত প্রকৌশলীর। শুধু তাই নয় চারটি স্তম্ভ¢ ও মাঝখানে বিশাল আকৃতির লাল গোলক দিয়ে নির্মান করা উক্ত মিনারটি দিয়ে কি ভাব প্রকাশ পেয়েছে এ সম্পর্কে জানা নেই কারোই। নির্মিত মিনারের ডিজাইন পরিবর্তন করা হলেও অফিসের জনৈক এক কর্মকর্তা পুরোপুরি তা অস্বীকার করেছেন। নির্মিত মিনারের তথ্য সংগ্রহ করতে জেলা পরিষদের কার্যালয়ে গিয়েও সঠিক উত্তর মেলেনি কারেও কাছে। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আফতাব আলী জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় এ শহীদ মিনার নির্মিত হলেও তা এখন গ্রহণ করছে না জেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
এদিকে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল হবিগঞ্জ শহরের সরকারি বৃন্দাবন কলেজের ছাত্রী হোষ্টেলের পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির।
অন্যদিকে চারটি স্তম্ভ তার মধ্যে বিশাল আকৃতির লাল গোলক দেখিয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর শিশু পুত্র জিহান তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিল অতো বড় বলটা কিসের? প্রতিউত্তরে সঠিক জবাব দিতে পারেননি তার বাবা। শুধু মাত্র জিহানের বাবাই নয় জেলাবাসির কাছে অজানা বস্তুতে পরিণত হয়েছে নামধারী নবনির্মিত শহীদ মিনারটি।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরিচর্যার অভাবে মিনারটি আশপাশ ঘন ঝোপে পরিণত হয়েছে। পাকা বাউন্ডারীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চা-স্টল সহ নানা ধরনের দোকান। এলাকাবাসির অভিযোগ, মাদকাশক্তদের অন্যতম স্থানে পরিণত হওয়ায় রাতের বেলায় উক্ত এলাকার মানুষজনের চলাচলে বিড়ম্বনায় ভুগতে হয়।
বর্তমান সময়ে জেলাবাসীর দাবি, নির্মিত উক্ত মিনারের সঠিক তাৎপর্যময় ব্যাখা প্রদান করে ব্যবহারের জন্যে তা উন্মক্ত করে দেয়া হউক। পাশাপাশি এর যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সচেতন জনগণ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com