হাবিবুর রহমান নোমান, বাহুবল থেকে ॥ বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে ইনডোরে খেলার সময়সূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় মিরপুর বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বানিয়াগাঁও গ্রামের রিয়াদ মিয়া একটি ইনডোর খেলার মাঠ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সেখানে খেলার সময়সূচি নিয়ে পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বলের দলের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উজ্জ্বলের দলকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খেলার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর দলটি মাঠে গিয়ে দেখতে পায়, সেখানে অন্য একটি দল খেলছে, পরে রিয়াদ মিয়া উজ্জ্বলের দলকে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তবে উজ্জ্বলের দল এতে রাজি না হয়ে মাঠ থেকে চলে যায়।
এ ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুরে মিরপুর এলাকায় রিয়াদ মিয়ার ভাই মুরাদ মিয়াকে একটি গাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ খবর পেয়ে রিয়াদ মিয়া ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জ্বলকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার পর বানিয়াগাঁও ও পশ্চিম জয়পুর গ্রামের লোকজন মিরপুর বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে মিরপুর বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
তবে সংঘর্ষে আহতদের সঠিক সংখ্যা এবং বাজারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।