নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামে অর্ধশত বছরের পুরোনো একটি কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রবাসীরা। কয়েক হাজার মৃতদেহ সমাহিত হওয়া ওই কবরস্থানের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নেওয়া এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুরহানপুর গ্রামের মানিকপুর মৌজায় অবস্থিত কবরস্থানটির চারপাশের তিন অংশে আগেই আংশিক সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়া বুরহানপুর-বান্দের বাজার সড়কের অংশে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে ওই স্থান দিয়ে গরু-ছাগল কবরস্থানে প্রবেশ করে এবং গাছের ডালপালার কারণে কবরস্থানের পবিত্রতা ও পরিবেশ বিঘ্নিত হয়ে আসছিল। এ অবস্থায় কবরস্থানের সুরক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে প্রবাসীদের উদ্যোগে উন্মুক্ত অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি কবরস্থানের পাশে থাকা একটি জলাশয়কে পুকুরে রূপান্তর করে মুসল্লিদের জন্য অজুখানা নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়। তবে কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রামের একটি মহল ভূমি দখলের অভিযোগ তুলেছে। এ নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে হতাশা এবং এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ দুই পক্ষকে থানায় তলব করলেও অভিযোগকারীদের কেউ উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের মানিকপুর মৌজার ৪৬ নম্বর জেএল ও ১৯ নম্বর খতিয়ানের ১০৩ নম্বর ভাটাদাগের ৬৪১ নম্বর দাগ এবং ১০৪ নম্বর ভাটাদাগের ৬৪২ নম্বর দাগের ভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে মৃতদের দাফন করা হচ্ছে। কবরস্থানের পাশে একটি মাজারও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অর্ধশতাধিক বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসা এ কবরস্থানের তিন পাশে আগে থেকেই আংশিক সীমানাপ্রাচীর ছিল। একটি পাশ দীর্ঘদিন উন্মুক্ত থাকায় সেখানে গরু-ছাগলের বিচরণসহ নানা কারণে কবরস্থানের পরিবেশ ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।
কবরস্থানের সুরক্ষা ও পবিত্রতা রক্ষায় প্রবাসীদের উদ্যোগে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এতে কবরস্থানের সীমানাপ্রচীর নির্মাণ কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে অংশগ্রহণের আহবান জানানো হয়। পরে কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি প্রবাসীসহ গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীরের এ মহৎ কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে বুরহানপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মাহের হোসেন বিভিন্ন মিথ্যা-ভুয়া অভিযোগ দিয়ে প্রশাসনসহ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকির হোসেন বলেন, কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে অহেতুক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের আত্মীয়-স্বজনেরও কবর এই কবরস্থানে রয়েছে। একটি মহৎ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন-এই মহৎ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে আমি এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে পবিত্র কবরস্থানের হেফাজতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে আমরা প্রশাসনসহ সচেতন মহলের সহযোগিতা চাই।
কবরস্থানের জায়গার উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক তারেক রহমান বলেন, “অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষ এবং বর্তমানে আমরা এই জায়গার প্রকৃত মালিক। দীর্ঘদিন আগে আমরা কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এরপর থেকে এলাকায় যারা মারা গেছেন, তাদের অনেককেই এখানে দাফন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কবরস্থানের তিন পাশে আগে থেকেই সীমানাপ্রাচীর ছিল। একটি পাশ উন্মুক্ত থাকায় ওই স্থান দিয়ে গরু-ছাগল কবরস্থানে প্রবেশ করে পবিত্রতা নষ্ট করছিল। এ কারণে প্রবাসীদের উদ্যোগে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধন ও পবিত্রতা রক্ষায় উন্মুক্ত অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি পক্ষ এ সুন্দর ও মহৎ কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ তাদের পূর্বপুরুষদেরও এখানে কবর রয়েছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”