স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন, একটি শিক্ষিত জাতিই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেটে শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে উপহার দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১১টায় বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নে নজির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কলেজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
হুইপ জি কে গউছ আরও বলেন-নজির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী একজন গুণী শিক্ষক ও গুণী মানুষ ছিলেন। তিনি শুধু নিজের সন্তানদের মানুষ করেননি, এলাকার মানুষকেও সুশিক্ষায় আলোকিত করার চেষ্টা করেছেন। নিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষকতা করেছেন। সেই গর্বিত পিতার গর্বিত সন্তান হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন এবং তাদের সুশিক্ষায় আলোকিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি একজন দক্ষ ও সৎ মানুষ। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ থেকেই তিনি এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ কাজে এলাকার মানুষেরও সহযোগিতা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক ছিল না। জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতাও ছিল না। ফলে এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা হয়েছে। তারা রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন করেনি। এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা আওয়ামী লীগ করেনি। আওয়ামী লীগ যা করেছে, তার উচিত জবাব বাংলাদেশের মানুষ দিয়েছে।
এমপি জি কে গউছ বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। বিএনপি কোনো কোয়ালিশন করে রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়নি, কারও দয়ায় ক্ষমতায় বসেনি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হুইপ জি কে গউছ বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, আমাদের কোনো অন্যায় করা যাবে না। আমরা নিজেরা অন্যায় করব না এবং কোনো অন্যায়কারীকে আশ্রয়-প্রশ্রয়ও দেব না। আমরা ঠিক থাকলে হাজার চেষ্টা করেও কেউ বিএনপির ক্ষতি করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তিনি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড প্রদান করছেন। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদেরও সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম।
কলেজের অধ্যক্ষ মোর্শেদ কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম তরফদার তনু, মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসুফী, শিক্ষানুরাগী মশিউর রহমান লাভলু, জালাল সিদ্দিকী, অধ্যাপক ইষু ভুষন দাস, প্রধান শিক আব্দুল মান্নান, হরিপদ বৈষ্ণব, মহিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হক মারুফ, সাবেক আহ্বায়ক হাজী লুৎফুর রহমান, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান, আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুদ্দদ আহমেদ, অ্যাডভোকেট এসএম বজলুর রহমান, এডভোকেট সগীর আহমেদ, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব হাসবী সাইদ চৌধুরী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ।
এর পূর্বে প্রধান অতিথি হুইপ জি কে গউছ কলেজের ফলক উন্মোচন করেন এবং কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষ রোপন করেন।