হাবিবুর রহমান নোমান, বাহুবল থেকে ॥ বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের ভূগলী গ্রামে আব্দাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন এবং হত্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আব্দাল মিয়া ভূগলী গ্রামের ওয়াছ উল্লাহর ছেলে এবং এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহতের কেয়ারটেকার মোছা. হোসনা বানু জানান, প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টার দিকে তিনি খাবার নিয়ে আব্দাল মিয়ার ঘরে যান। কিন্তু ঘরের প্রধান ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় অনেক ডাকাডাকি করেন। পরে ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ডাক দিলে নিহতের ছোট ভাই মনির মিয়া এসে ফটক খুলে দেন। তিনি বলেন, ঘরের ভেতরে গিয়ে আব্দাল মিয়াকে না পেয়ে বিভিন্ন কক্ষে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে মনির মিয়া আমাকে ডেকে বলেন, ভাইয়ের লাশ রান্নাঘরে দেখা যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখি, জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ ঝুলছে। কেয়ারটেকার আরও জানান, আব্দাল মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই মনির মিয়া একই বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। দুই ভাই সৎ ভাই এবং একই সঙ্গে ভায়রা সম্পর্কেও ছিলেন বলে তিনি জানান। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক বাসিন্দার দাবি, ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে এসব দাবি এখনো প্রমাণিত হয়নি। বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আব্দাল মিয়া এলাকার একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকেই এখন সবার নজর।