বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে দালাল ও চোরের দৌরাত্ম্য

  • আপডেট টাইম বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮৬ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল দিন দিন যেন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের স্থানে পরিণত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালালের পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরচক্র। প্রতিদিনই ঘটছে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা। এতে অসুস্থ রোগী ও স্বজনরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সম্প্রতি বানিয়াচং উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস তার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনেন। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে মুহূর্তেই পকেট থেকে মানিব্যাগ উধাও হয়ে যায়। শুধু টাকাই নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে তিনি পড়েছেন চরম বিপাকে। অন্যদিকে, চুনারুঘাট থেকে আসা রোগীর স্বজন সুমনা আক্তার জানান, “ডাক্তারের সিরিয়ালের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। এ সময় এক দালাল নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিরক্ত করছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোন গায়েব হয়ে যায়।”
হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা বলছেন, দালালরা বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। তারা চিকিৎসার জন্য বাড়তি টাকা দাবি করছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছে। আর এই সুযোগে চোরচক্র সক্রিয় হয়ে জিনিসপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে দ্বিগুণ সমস্যায় পড়ছেন।
হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিই দালাল ও চোরদের বাড়াবাড়ির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল নেই, নেই সিসি ক্যামেরার কার্যকর নজরদারিও। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে এমন ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারীরাও এসবের সাথে জড়িত আছে। যারা কমিশনের বিনিময়ে দালাল ও চোরদের সহযোগিতা করছে।
সচেতন মহল বলছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে দালালচক্র নির্মূল এবং চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পুলিশি টহল বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ কিছুটা হলেও কমে আসবে। একজন স্থানীয় সমাজকর্মী মন্তব্য করেন, “চিকিৎসার জন্য আসা মানুষ যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকেন, তবে এটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। হাসপাতাল প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com