মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

নবীগঞ্জে সংঘর্ষে হত্যার ঘটনায় ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৯ বা পড়া হয়েছে

ছনি আহমেদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় এ্যাম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়া খুনের ঘটনায় নবীগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম সোহেলসহ ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১০ জন সাংবাদিককে আসামীভূক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত ফারুক মিয়া নবীগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশাহীদ আলী আশা নবীগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের খসরু মিয়া তালুকদারকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ১ লাখ টাকা নেন। কিন্তু সময়মতো বিদেশ পাঠাতে না পারায় খসরু মিয়া তার পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে ফারুক মিয়াকে নিয়ে একাধিকবার আশাহীদকে তাগিদ দেন। টাকা না দিয়ে বরং আশাহীদ আলী আশা তাদের গালাগাল ও হুমকি দেন। গত ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে তিমিরপুর গ্রামের খসরু মিয়া তালুকদার নবীগঞ্জ পৌর এলাকার লতিফ মার্কেট এর সামনে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আশাহিদ আলী আশাকে পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে আশা লেনদেন এর কথা অস্বীকার করে তদের গালমন্দ করে। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর যুবলীগ নেতা আশার পক্ষে আনমনু গ্রামের লোকজন তিমিরপুর গ্রামের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ৭ জুলাই দুপুর ২টার দিকে আনমনুসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন নবীগঞ্জ হাসপাতাল থেকে বাইতুল জব্বার জামে মসজিদের রাস্তায় জড়ো হয়ে ওই এলাকার দোকানপাট ভাংচুরের হুমকি দেয়। এ সময় বাদীর স্বামী ফারুক মিয়াসহ কয়েকজন আসামীদের এসব কার্যক্রমের প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ফারুক মিয়াসহ অন্যান্যদের মারধোর করে। এতে ফারুক মিয়া নিহত হয়। এদিকে পূর্ব তিমিরপুর ও চরগাঁও গ্রামের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আনমনু, রাজাবাদ, রাজনগর, কানাইপুর, নোয়াপাড়া ও আশপাশের মৎস্যজীবী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামের লোকজন। বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন। এ সময় বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালসহ শহরের অন্তত ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয় এবং ১০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম সোহেলসহ অন্যান্য জড়িতরা পলাতক রয়েছেন।
নবীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহার পাওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ফারুক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, মামলা নম্বর-১১। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।” বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, “ফারুক মিয়া হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী থানায় এজাহার দিয়েছেন, মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com