মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

“নিষেধাজ্ঞা, মামলার ভয়” সব কিছু তুচ্ছ করে ॥ নবীগঞ্জের ‘জনতার বাজার’ পশুরহাট বসানো হচ্ছে

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫
  • ১৬৮ বা পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ আইন, নিষেধাজ্ঞা, মামলার ভয় সব কিছুই যেন তুচ্ছ করে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ‘জনতার বাজার’ পশুরহাট বসিয়ে যাচ্ছে কথিত বাজার পরিচালনা কমিটি। শনিবার (১৪ জুন) বসলো ২১তম অবৈধ পশুর হাট, যা পরিচালনা করছে ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা। ২০২৫ সালের ৩১ মে অবৈধভাবে বসানো হাটে দায়িত্বপালনরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্দ্বীপ তালুকদারের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় হাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের গোলাপকে প্রধান আসামি করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও, আজও কেউ গ্রেফতার হয়নি। উল্টো, মামলার আসামিরাই প্রকাশ্যে পশুর হাট পরিচালনা করে বিপুল অর্থ আদায় করছে। প্রত্যয়ন নামের এক ধরনের অবৈধ রশিদের মাধ্যমে প্রতিটি পশু বিক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি হাটে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ তোলা হচ্ছে। গত চার মাসে অন্তত ২০টির বেশি হাট বসেছে, যার মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি অবৈধ লেনদেন হয়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান হাটটিকে অবৈধ ঘোষণা করে ৩১ জানুয়ারির পর হাট বন্ধের নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মাইকিং ও নোটিশও টাঙানো হয়। নির্দেশনায় উল্লেখ ছিল, মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অনুমোদনহীন হাট পরিচালনা করলে হাট-বাজার আইন ২০২৩ এবং মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হবে। তবে এসব নির্দেশনা যেন রীতিমতো কাগুজে নথিতেই রয়ে গেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতি সপ্তাহে হাট বসছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হাট পরিচালনা কমিটিতে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে- আওয়ামী লীগ নেতা কাজী তোফায়েল আহমদ, বিএনপি নেতা কাওছার আহমদসহ একাধিক নেতা-কর্মী বাজার বসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, হাটটি অবৈধ হওয়ায় এর কোনো প্রত্যয়ন বা অর্থ আদায়ের আইনগত ভিত্তি নেই। এ ধরনের আদায় মূলত চাঁদাবাজি। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে জনতার বাজার এখন দুর্নীতির অন্যতম প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মামলার আসামিরাই যদি প্রকাশ্যে হাট চালায়, প্রশাসন চুপ করে বসে থাকে, তাহলে আইনের শাসন কোথায়?” নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো খাস আদায় করা হচ্ছে না। কেউ যদি রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করে থাকে, সেটা অবৈধ। এদিকে, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে হাটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, এই অবৈধ হাটের পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা নবীগঞ্জে আইনের শাসনকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে দেবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com