রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি ‘জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ বিষয়ে হবিগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে জেলা জামায়াতের মতবিনিময় বানিয়াচংয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি আবু তাহের, সম্পাদক মোফাজ্জল নবীগঞ্জে লাইটেস স্ট্যান্ডের উদ্বোধন ও ইউএনও রুহুল আমিনকে সংবর্ধনা বনগাঁও গ্রামে সংবাদকর্মীর দোকানে হামলা-ভাংচুর ॥ হত্যার হুমকি শায়েস্তাগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ হবিগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ॥ জনদূর্ভোগ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বানিয়াচঙ্গের নিশ্চিত পুরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ ॥ বৃদ্ধা খুন ॥ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ॥ প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
  • ৬১৬ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পরিবারের সংঘর্ষে ফিকলের আঘাতে গোলাপজান বিবি (৬৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তবে এই হত্যা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা বলছেন প্রতিপক্ষের ফিকলের আঘাতে গোলাপ চান বিবি মারা গেছেন। অপরদিকে প্রতিপক্ষের দাবি তাদের ফাঁসাতে ছেলে মোহাম্মদ আলী ফিকল দিয়ে মা গোলাপ চান বিবিকে খুন করেছেন। তবে পুলিশ বলছে গোলাপ চানকে কারা হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনার পর পরই প্রতিপক্ষের বাড়িতে লুটপাট ও ভাংচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যব¯’া নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্র জানায়, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরের মধ্যে বাড়ির সীমানা, পানি নিস্কাশনের রাস্তাসহ জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে চললে মামলা মোকদ্দমা। সম্প্রতি বানিয়াচং থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে এ ঘটনাটি নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেন। এর মধ্যে বুধবার সকালে মোহাম্মদ আলী ও তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরকে নিয়ে এলাকার মুরুব্বীয়ান সামাজিক বিচারে বসেন। বিচারের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফিকলের আঘাতে মোহাম্মদ আলীর মা গোলাপ চান বিবি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ অবস্থায় মোহাম্মদ আলী তার মাকে কাদির গংরা হত্যা করেছে বলে শোর চিৎকার শুরু করে লোকজন নিয়ে কাদির গংদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং-সার্কেল) এর নেতৃত্বে বানিয়াচং থানার ওসি এমরান হোসেন, ওসি তদন্ত প্রজিত দাশসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় পুলিশের কাছে গোলাপ চান বিবি’র ছেলে মোহাম্মদ আলী জানান, কাদির মিয়া গং তার মাকে ফিকল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে।
অপরদিকে পুলিশকে জানানো হয়, নিহত গোলাপ চান বিবির ছেলে মোহাম্মদ আলী ফিকল দিয়ে আঘাত করে তার মাকে হত্যা করেছে। এসব তথ্য ও নিহতের আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশ বিভ্রান্তের মধ্যে পড়ে।
পরবর্তীতে সেখানে পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালিকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম গিয়ে দিনভর তদন্ত করে। হত্যার ঘটনায় রহস্য সৃষ্টি হওয়ায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা। এ সময় পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকারী যারাই হোক পুলিশ তদন্ত করে তা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। শুধু হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না যারা বাড়িঘর ভাংচুর ও লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্ধ্যায় নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে সন্ধ্যায় আব্দুল কাদির জানান, বাড়ির সীমানা নিয়ে তার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আলীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে তাদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। গতকাল আমাদের আত্মীয় স্বজনরা বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সামাজিক বিচারে বসেন। কিন্তু মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী ও মেয়ে সভাস্থল থেকে বের হয়ে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে সে আমাদের উপর আক্রমণ করে। এতে মুরুব্বীয়ান বাঁধা দিলে সে ঘরে গিয়ে তার মাকে ফিকল দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে তার মা মারা যায়। পরে সে তার মাকে হত্যা করা হয়েছে বলে চিৎকার শুরু করে এবং বাড়ি থেকে নেয়া তার নয়া পাথারিয়া গ্রামের আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আমাদের ঘর বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে। তারা আমার ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, টিভিসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও আমার ২টি গরু, ঘরের থাকা সিদ্ধ ১শ মণসহ মোট ৪শ মণ ধান লুট করে নিয়ে যায়। আমার ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। আমার আত্মীয় শাহেদা খাতুন ও রেনু মিয়ার ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। সব মিলিয়ে আমার পক্ষের ৩টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। তিনি বলেন- এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ দিকে রাতে এ ঘটনার সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কুমার রঞ্জনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com