শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

লাখো জনতার ভালবাসায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে চিরনিন্দ্রায় শায়িত আল্লামা তাফাজ্জুল হক

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১২০৬ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন হবিগঞ্জর মানুষেরপ্রিয় শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব আল্লামা তাফাজ্জুল হক। গতকাল সকালে লক্ষাধিক মুসল্লিার অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের বৃহৎ জানাযা শেষে দাফন করা হয়। জানাযার নামাজে হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কের চৌধুরী বাজার থেকে আলমপুর নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার দৈর্ঘ রাস্তা, হবিগঞ্জ উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসার বিশাল মাঠ, মাদ্রাসার ৬টি ভবনের প্রায় সকল তলা, বিভিন্ন দোকান, কৃষি জমি, খোয়াই নদীর চর এলাকা লোকে লোকারন্য হয়ে যায়। গতকাল সোমবার ফজরের নামাজের পর থেকেই মুসল্লীরা টাইটেল মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৮টার মধ্যে পুরো মাঠ মুসল্লীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে হবিগঞ্জ শহরের সবকটি প্রবেশ মুখে যানজট শুরু হয়। জানাযার নামাজস্থল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে শহরের বাইপাস কামড়াপুর, পিটিআই সংলগ্ন চৌরাস্তা এবং সওদাগর মসজিদ এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সকল যানবাহন আটকে দেয়। মুসল্লীরা পায়ে হেটে জানাযার নামাজে অংশ গ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পুরো শহর অনেকটা থমকে দাড়ায়। সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যে যার মতো করে ছুটে যান জানায় অংশ নিতে। জানাযার স্থান এলাকায় গাড়ি বা পায়ে হেটে চলালেরও কোনো সুযোগ ছিল না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসার চারদিকে অবস্থিত বাসা-দোকানের ছাদ, রাস্তা, মাঠ-ঘাট, নদীর চর সহ পুরো এলাকা জানাযার ময়দানে পরিণত হয়ে ছিল।
প্রায় ৮০ বছর বয়স্ক এক মুরুব্বীকে জানায়ায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লীর সংখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, লোকসংখ্যা বলার সুযোগ নেই। কারণ যে দিকে থাকিয়েছি দেখেছি শুধু মানুষ আর মানুষ। শেষ দেখতে পাইনি। কিভাবে বলবো লোক সংখ্যা। জানাযায় উপস্থিত লোকসংখ্যা সম্পর্কে এভাবেই মতামতব্যক্ত করেছেন আরো বেশ কয়েকজন। কারো পক্ষে সঠিক নির্ধারণ করাও দুরোহ। কারণ কারো পক্ষেই জানাযায় অংশগ্রহণকারী সকল মুসল্লীকে দেখার সুযোগ হয়নি।
জানাযার নামাজে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জের এমপি শাহিনুর পাশা চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্জ জিকে গউছ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নুর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা নুরুল ইসলাম অলিপুরী, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আল্লামা আনসারী, সিলেট সুনামগঞ্জ মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম, পীর মাশায়েখগন অংশ গ্রহণ করেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মরহুম আল্লামা তাফাজ্জুল হকের বড় ছেলে মাওলানা হাফেজ মাসরুরুল হক। উপস্থিত উচ্চ পর্যায়ের আলেম ওলামাগনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মরহুমের ৫ সন্তান হাফেজ মাসরুরুল হক, হাফেজ তাসনিমুল হক, হাফেজ তাফহিমুল হক, হাফেজ মামনুনুল হক, হাফেজ মাবরুরুল হক মরহুমের লাশ মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে খনন করা কবরে শায়িত করেন।
মৃত্যুর সংবাদ জানার সাথে সাথে রবিবার রাতেই সিলেট রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র মরহুমের লাশ দেখতে হবিগঞ্জে চলে আসেন। তাছাড়া বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ রবিবার বিকাল থেকেই মরহুমের লাশ একনজর দেখতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে ভিড় করেন।
হবিগঞ্জ তথা দেশের পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ স্থানীয় আলেমে দ্বীন আল্লামা তাফাজ্জুল হক রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ইন্তেকাল করেন। ওইদিন সকালে তেতৈয়া মহিলা মাদ্রাসায় হাদিস শাস্ত্র পড়ান, দুপুরে জমিয়তে উলামার একটি মিটিং এ অংশ গ্রহণ করেন, জোহরের নামাজের পর দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেয়ার সময় বুকে ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পথে ইন্তেকাল করেন আল্লামা তাফাজ্জুল হক। হবিগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া টাইটেল মাদ্রাসা, হবিগঞ্জ তেতৈয়া মাদানীনগর মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা, নুরুল হেরা জামে মসজিদসহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা তাফাজ্জুল হকের মৃত্যুতে হবিগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে অধ্যায়ন ও শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন তিনি। আল্লামা আহমেদ শফীর পরেই আল্লামা তাফাজ্জুল হককে দেশের পূর্বাঞ্চলের বয়োজেষ্ট আলেম হিসাবে গন্য করা হয়। তার আমন্ত্রণে হবিগঞ্জের জামেয়া মাদ্রাসায় সৌদী আরবের দুই পবিত্র মসজিদের ইমাম, বায়তুল মোকাদ্দসের ইমামসহ দেশ ও বিদেশের বহু আলেম এসেছেন।
হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক ইসলাম প্রিয় মানুষের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছেন। তাকে ঘিরে সাধারণ মুসল্লীদের আবেগ অনুভূতি ছিল বাধ ভাঙ্গা জুয়ারের মতো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com