স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচংয়ে তোফাজ্জুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী পুরুষসহ শতাধিক লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার পাড়াগাঁও ৭ মহল্লাবাসীর জলমহাল লিজ নেন একই গ্রামের ঠাকুরানদিঘী পূর্বপাড়ের শাহিন মিয়া। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই জলমহালে মাছ ধরতে গেলে একই গ্রামের জিতু মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় শাহিন মিয়ার ভাই তোফাজ্জুল মিয়াকে একা পেয়ে জিতু মিয়া ও তার লোকজন মারধর করেন। এতে তোফাজ্জুল গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ সেপ্টেম্বর তোফাজ্জুল মিয়া মারা যান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করে আরো বলেন-পুলিশ আসামি জাকির মিয়াকে হ্যান্ডকাপসহ গ্রেফতার করলেও সে পালিয়ে যায়। পরে এক বিএনপি নেতার মাধ্যমে সমঝোতা করে হ্যান্ডকাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বক্তাদের প্রশ্ন হ্যান্ডকাপ আসামীর হাত থেকে অক্ষতভাবে খুলে আনে পুলিশ, অথচ জাকিরকে তারা ছেড়ে দেয় সমঝোতার কারণে। এ ঘটনায় কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও তাকে এখন পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা বলেন-জাকিরসহ দ্রুত যদি আসামীদের গ্রেফতার করা না হয় তা হলে সাধারণ গ্রামবাসিকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
নিহত তোফাজ্জুলের বড় ভাই শাহীন মিয়া বলেন-হত্যাকারীরা নির্মমভাবে আমার সহজ সরল ভাইকে হত্যা করেছে। তার তিন অবুঝ শিশু সন্তান পিতাকে হারিয়ে এখন নির্বাক। আমরা চাই পুলিশ যেন যেন তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন-বানিয়াচং থানা পুলিশের নিস্ক্রিয়তার কারণেই কোন আসামী গ্রেফতার হচ্ছে না। তোফাজ্জুলের ছেলে রাহিম মিয়া বলেন-আমার চোখের সামনে আমার বাকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেফতার করছে না। আমি আমার বাবার হত্যাকারিদের ফাসির দাবী জানাই। এদিকে-সমঝোতায় হ্যান্ডকাপ উদ্ধার এবং আসামী জাকিরকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচার দাবীও করেছেন অনেকে।