স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবল উপজেলার ১নং স্নানঘাট ইউনিয়নের স্ন্নানঘাট গ্রামের সোহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি বিএনপি নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও মামলার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। কেউ এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাঁকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা এবং ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সময়ের শান্তিপ্রিয় এই এলাকায় বর্তমানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বেচাকেনা, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমূলক মামলার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এলাকায় ইয়াবা ও মাদক বেড়ে যাওয়ায় যুবসমাজের একটি অংশ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দক্ষিণ স্নানঘাটের সোহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি জড়িত। তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থানা-পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা বলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা মামলা বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। বর্তমান সরকার মাদক, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেবে এমন প্রত্যাশা থেকে এলাকাবাসী প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছেন। তাঁদের মতে, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এলাকাবাসীর দাবি, স্নানঘাট গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমূলক মামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এ বিষয়ে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।