স্টাফ রিপোর্টার ॥ শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় এখন উৎসবের রঙে সেজে উঠছে হবিগঞ্জ। শহর থেকে গ্রাম, বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় পড়ছে তুলির শেষ আঁচড়, কোথাও চলছে রং, পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজ। আবার কোনো মণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাজ ও আলোকসজ্জার কর্মীরা। শারদীয় দুর্গোৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। দিন-রাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজে ছুটছেন কারিগররা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করে মণ্ডপে স্থাপন করতে হবে, তাই এখন দম ফেলারও যেন সময় নেই তাদের। হবিগঞ্জ শহর ও বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কোথাও দেবী দুর্গার মুখাবয়বের নিখুঁত কাজ করছেন কারিগর, কোথাও চলছে রং করার কাজ। আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার শাড়ি, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জা নিয়ে। কারিগরদের ব্যস্ততা যেন চোখে পড়ার মতো। কেউ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর মুখের অভিব্যক্তি, কেউ ব্যস্ত পোশাক পরাতে। কেউ আবার প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়াতে করছেন শেষ মুহূর্তের কারুকাজ।
কারিগররা জানান, প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হলেও রং, পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজে সময় লাগে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে তাই রাত-দিন কাজ করতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এবার হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ৬৬৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে শুরু হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। কোথাও তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা। মণ্ডপ ঘিরে আশপাশের এলাকাতেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। শুধু মণ্ডপ সাজানো নয়, পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটাতেও ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কেনাকাটাও চলছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম- সবখানেই বাড়ছে মানুষের ব্যস্ততা। পূজামণ্ডপগুলোয় প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। পূজাকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতেও বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। অনেক মণ্ডপে স্থানীয় তরুণ-যুবকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের সহযোগিতা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন তারা।