বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

চুনারুঘাটের চাঁনপুর চা বাগানে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৬
  • ১০৪২ বা পড়া হয়েছে

এম কাউছার আহমেদ ॥ শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে চুনারুঘাট উপজেলার চাঁনপুর বাগানে। এক সময় যেখানে একজন শিক্ষার্থীও পাওয়া কঠিন ছিল। এখন সেখানে লেগেছে শিক্ষার ছোয়া। বর্তমানে প্রতিটি পরিবারে রয়েছে শিক্ষার্থী। তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যানরত।
ডানকান ব্রাদাস কোম্পানী পরিচালিত চানপুর চা বাগানটি চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। প্রায় ৯শ হেক্টর আয়াতনের এই বাগানে ১০ হাজার লোকের বাস। শিক্ষার সুষ্টু পরিবেশ সৃষ্টি করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায় সরকারে পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। যেখানে রয়েছেন ৫ জন স্থায়ী শিক্ষক। আছে খন্ডকালীন শিক্ষক। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪৭। রয়েছে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে বিনা মুল্যে চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। বাগানের পাশেই রয়েছে একটি সু-সজ্জিত উচ্চ বিদ্যালয়। এ যেন মেঘনা চাইতে বৃষ্টি। গতকাল সরেজমিনে চা বাগানটি পরিদর্শনে গেলে এমন চিত্র দেখা যায়।
চা শ্রমিক সবিতা তাতী ও তার স্বামী স্বপন তাতী জানান, আমার ছেলে সনজিত তাতী সরকারী স্কুলে পড়ে। আরেক ছেলে আধিত্য ব্র্যাক স্কুলে অধ্যয়নরত। আমরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা পাই।
চা শ্রামিক নাদম মিরদা জানান, আমাদের সময় এ রকম সুযোগ সুবিধা ছিল না। অর্থে সংকটের কারণে আমি পড়া শুনা করতে পারিনি। কিন্তু এখন আমার বাগানের প্রতিটি পরিবারেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে।
সিলেট এমসি কলেজে মাস্টার্স অধ্যয়নরত দিপন কালেঙ্গী জানান, চা বাগানের শ্রমিকরা ক্রমান্বয়ে সচেতন হয়ে উঠছেন। এখন প্রতিটি ঘরেই শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে। কিন্তু এক সময় তা ছিল না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামছুন্নাহার জানান, ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার চাঁনপুর চা বাগানের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারী করে। তাই এখন পূর্বের চেয়ে বর্তমানের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি সদস্য নৃপেন পাল জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার বৈপ্লবিক অপরিবর্তন এসেছে। এখন প্রত্যেক বছরের ১ জানুয়ারী ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারী ব্যবস্থাপনায় বই পায়। এছাড়াও বাগানে শিক্ষা বিস্তারে ব্র্যাক ও শিখন স্কুল সহ বিভিন্ন এনজিওর প্রায় ১০টি বিদ্যালয় রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাসান মোঃ জুনায়েদ বলেন, মা সমাবেশ ও অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে চা বাগানের শ্রমিকদের শিক্ষা গ্রহনের বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ঝড়ে পড়া রোধ করতে বিদ্যালয় ট্রাস্কফোর্স কমিটি বাড়ী বাড়ী গিয়ে শিক্ষার্থী খোজ নেয় এবং শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করে। এখন পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। যদিও চা-চাষের শুরুর সময়ের ধারণা থেকে এখনও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তারা। সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব এখনও পোষণ করেন চা-বাগানের কর্তারা। তবে পরিস্থিতি যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে তা চা-বাগান ঘুরে সকলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল। টিকে থাকার নিরন্তর সংগ্রামে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com