সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

মাধবপুরে ত্রিপল হত্যার দায় স্বীকার করেছে তাহের

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৬
  • ৬২৩ বা পড়া হয়েছে

রিফাত উদ্দিন, মাধবপুর থেকে ॥ মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বীরশিংহ পাড়া গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত জাহানারা বেগমের ভগ্নিপতি হাজী মোঃ মোহন মিয়া বাদি হয়ে গতকাল সকালে মাধবপুর থানায় ঘাতক তাহের উদ্দিন এলাইছ ওরফে শাহ আলমকে একমাত্র আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে গতকাল দুপুরে নিহত ৩ জনের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ঘাতক তাহের হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুল জবানবন্দি দিয়েছে।
হবিগঞ্জে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসাদ বেগমের খাস কামড়ায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘাতক তাহের বলে আর্থিক দন্যতা আর বিদেশ যেতে না পারার হতাশার মাঝে ভাবির প্রতারণা আর উপহাসের শিকার হয়ে খুনের সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু ভাবিকে খুন করতে গেলেও অন্যরা সামনে এসে পড়ায় তাদেরকে খুন করেন সে।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১১ বছর শাহ আলম কুয়েত এবং গ্রীসে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে সে তার ভাবি জাহানারা বেগমের কাছে উপার্জিত টাকা প্রেরণ করে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর পূর্বে সে গ্রীস থেকে দেশে ফিরে আসে। এর পর থেকে তার পাঠানো টাকা ভাবীর নিকট ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হয়। ভাবি তার কোন টাকা ফেরত দেননি। এমনকি সম্পত্তির ভাগেও তাকে ঠকিয়েছেন। এ অবস্থায় প্রায় দুই/আড়াই বছর ধরে ভাবির সাথে তার কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। কিন্তু সময়ে অসময়েই ভাবি তাকে উপহাস করে কথা বলেন। এরই মাঝে সে বিয়ে করে। তার একটি সন্তানও রয়েছে। আর্থিক কষ্টে সে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দৈন্যতার মাঝে দিনাতিপাত করছিল। সম্প্রতি তাহের আবারও ইরাক যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিল। ১৯ আগস্ট তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট হবেনা জানতে পেরে ১৮ আগস্ট সে বাড়ি ফিরে আসেন। তখন থেকে ভাবির উপহাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় ভাবি জাহানারা বেগম তাকে উদ্দেশ্য করে নিজের মেয়ে শারমিন আক্তারকে উপহাস করে বলেন তোমার আর বিদেশ যাওয়া হবেনা। একাধিকবার এমন বলার পর সে সিদ্ধান্ত নেয় ভাবি জাহনরাকে খুন করবে। রাতে রান্না ঘর থেকে ছুরা নিয়ে ভাবির ঘরে ঢুকে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এসময় বিদ্যুৎ চলে যায়। মায়ের চিৎকার শুনে তার মেয়ে শারমিন এবং ছেলে সুজাত এগিয়ে এসে জাহানারাকে জড়িয়ে ধরলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করে তাহের। ছুটে আসেন শাহ আলমের বৃদ্ধা মা। তিনি এমন অবস্থা দেখে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশি শিমুল মিয়া এসে এমন অবস্থা দেখে ঘরে থাকা একটি সাবল তাহেরের দিকে ছুড়ে মারে। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে শিমুল মিয়াকেও ছুরিকাঘাত করে। আহতদের মাঝে জাহানারা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে শিমুল মিয়া এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর শারমিন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় সুজাত মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, শাহ আলম স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ হত্যাকান্ড সে একাই ঘটিয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে ভাবিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে। কিন্তু ঘটনার সময় অন্যরা এসে পড়ায় তাদেরকেও হত্যা করতে বাধ্য হয়।
এদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে নিহত ৩ জনের ময়নাতদন্ত করা হয় হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বিকালে শিমুলের লাশ দাফন করা হয়। আর সন্ধ্যার পর জাহানারা ও শারমিনের লাশ দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, মৃত সৈয়দ হোসেনের ছেলে তাহের (৩৫) মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে বড় ভাই সৌদি প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) তার মেয়ে এক সন্তানের জননী শারমিন (২৫) ও প্রতিবেশী আব্দুল আলীমের ছেলে শিমুল (২৫)কে উপর্যুপরী ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। আহাত হয় নিহত জাহানারার ছেলে সুজাত (১০)।
সূত্র মতে, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে সৌদি প্রবাসী বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুই বছর আগে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভাবি জাহানারা বেগম মাধবপুর থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেন। তখন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আনিসুর রহমান সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন। পরে গ্রাম্য শালীসে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। এরপর থেকে ভিতরে ভিতরে জাহানারার প্রতি তাহের ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
জানা যায়, ১০/১২ বছর আগে তাহের পাশের বাড়ির সুমন নামের এক যুবককে এসিড ছুড়ে মেরেছিল। পরে জায়গা জমি দিয়ে ওই ঘটনার মিটমাট করতে হয়। এরপর থেকেই তাহেরের সাথে তার ভাই গিয়াস উদ্দিনের দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com