শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর জশনে জুলুছে লাখো জনতার ঢল সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে হুইপ জি কে গউছ হবিগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস পালিত মাধবপুরে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাঁই ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কে দুর্ঘটনায় যুবক নিহত আশুগঞ্জে ভারতীয় চোরাই শাড়িসহ চুনারুঘাটের দুই যুবক গ্রেফতার নবীগঞ্জের পরিচিত মুখ মারুফ মিয়া আর নেই চুনারুঘাটে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুশে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযান ॥ বিপুল পরিমান এসকাফসহ নারী আটক

কল্যাণপুর থেকে সৈয়দ কালা শাহ কলিম শাহ আধ্যাত্মিকতার কিছু কথা

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৪
  • ১০৬২ বা পড়া হয়েছে

সৈয়দ কালা শাহ সৈয়দ কলিম শাহ’র আধ্যাত্মিক জীবদ্দশায় আলোকিত ঘটনা বর্ণনা রয়েছে। তারা প্রায় ২০০ বছর পূর্বে ভারতে কল্যাণপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাল্যকাল থেকে আধ্যাত্মিকতার কাজ শুরু করেন। তিনি ভারত বর্ষের বিভিন্ন স্থানে আস্তানা গড়ে ছিলেন এবং বহু কেরামতি হাসিল করে দেশবাসীকে ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করেছিলেন। তাদের জন্ম হয় ভারতের কল্যাণপুরে। এক সময় ভারতে কোন প্রকার বৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন যাবৎ বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে হাল চাষ করা সম্ভব হয় নাই। ফলে ফসলাদি হয়নি। তাতে ভারত বর্ষের অনেক মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। তখন সৈয়দ কালা শাহ ফকির আগরতলা মহারাজের বাড়ীতে ভাত খুজেছিলেন। তখন মহারাজ রাগান্বিত হয়ে বলিল যে, আমি কোন পীর ফকিরকে ভাত খাওয়াইনা। তখন কালা শাহ বলিলেন মহারাজা আমাকে ভাত দেবে না কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে মহারাজা বলিল আমার দেশে বৃষ্টির অভাবে ফসল হয়নি। অনাহারে মারা যায় অনেকেই। আমি অনেক দান খয়রাত করেও তাতে কোন কাজ হয়নি। এ কথা বলে মহারাজা রাগান্বিত হয়ে আদেশ করল যে, কে কোথায় আছ সেই কালা শাহকে আমার কারাগারে বন্দি করে রাখ। তখন কালাশাহ মহারাজাকে বলিলেন আপনি হলেন ভারতের মহারাজা আমাকে যা খুশি তা করিতে পারেন। তখন রাজা বলিল আমি কিছু চাইনি আমি আমার দেশের জন্য বৃষ্টি চাই। তখন কালা শাহ ফকির কারাগারে বসে আল্লাহর ধ্যানে লা-ইলাহা, জিকির শুরু করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। ওই বৃষ্টিতে মানুষ, গরু, ছাগল ঘর হইতে বের হইতে পারে নাই। ওইদিন বুঝা গেল আগরতলা ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন মহারাজা দৌড়াইয়া কালা শাহর কাছে বলিল যে, বাবা আমি বুঝিতে পারি নাই। আল্লাহর বান্দা এখনো দুনিয়াতে আছে। আমার প্রজাগণ মারা যাইতেছে আপনার জিকির বন্ধ করুন। তখন কালা শাহ্ জিকির বন্ধ করলেন। জিকির বন্ধের কিছুক্ষণ পর রহমতের বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল। তখন মহারাজা বলিলেন আপনি কি চান, বাবা আমার কাছে। তখন কালা শাহ বলিলেন, আপনার কাছে আমার চাওয়ার কিছুই নেই। আমার একমাত্র চাওয়ার জায়গা আল্লাহর কাছে, তিনিই আমাকে দিতে পারেন। তৎকালীন মহারাজার একটি বাজার ছিল ওই বাজারের নাম ছিল রাজার বাজার। এই বাজারটি তৎকালীন সীলহট্ট বিভাগের হবিগঞ্জ মৌকুমার কাচারী ছিল চুনারুঘাটের রাজার বাজারে। এর পূর্বদিকে একটি বিল ছিল সেই বিলের নাম ছিল নেড়াচুঙ্গের বিল। কালা শাহর আলোকিত অলৌকিক ঘটনা দেখে মহারাজা খুশি হয়ে রাজার একটি কাসার বাটিসহ নেড়াচুঙ্গের বিলটি কালা শাহকে দান করে দেন। বর্তমান বাড়ী বিশগাঁও পরগনার বড়াব্দা মাইজগাঁও ফকির বাড়ী। সৈয়দ কালা মানিক শাহ ও সৈয়দ কলিম শাহ ওই বাড়ীতে আস্তানা বসতি ঘরে তোলার পর থেকে কালা মানিক শাহ ও কলিম শাহর দুই ভাইয়ের মাঝে আধ্যাত্বিকতার বাড়াবাড়ি শুরু হয়। সৈয়দ কালা শাহর জন্য কেহ কলা নিয়ে যাওয়ার চাইলে পথিমধ্যে কলিম শাহ রাস্তায় কলা খোজলে ভক্তরা কলিম শাহকে কলা না দিয়ে কালা শাহর নিকট কলা নিয়ে চলে যাইত। কালা শাহর নিকট হস্তান্তর করার পর ওই কলাগুলো কাঁচা কলায় পরিণত হয়ে যেত। কলিম শাহর জীবনে ছিল অনেক কৃতিময়। কালা শাহ্র স্ত্রী কালা পিরানী ও ছিলেন অনেক কৃতিময়। কেহ যদি কোন জিনিস বিক্রি করতে হত সেই জিনিস পীরের হাত ছুয়ে নিত। তখন মালটি বিক্রি হয়ে যেত। কেহ যদি রোগে আক্রান্ত হতো পিরানী হাত ছুয়ালে সে আরোগ্য হত। কালা শাহর তিনটি নাম ছিল কালা শাহ, কালু শাহ ও কালা মানিক শাহ নামে ভক্তরা চিনত। তাদের বংশধর হলেন সেলিমের বাবা সৈয়দ মোঃ ইসমাইল শাহ, দাদা সৈয়দ ছিদ্দিক শাহ। সেলিম শাহ’র পীর ছিলেন সিলেটের আব্দুল জলিল শাহ। তিনি না খেয়ে ৫ বৎসর লাহোরের পাহাড়ে অবস্থান করে মজযুস আধ্যাত্মিক সাধনা লাভ করে সিলেটে ফিরে আসেন। সেলিম শাহর বয়স যখন বার বছর তখন তিনি জলিল শাহর নিকট থেকে খেলাফত নিয়ে আধ্যাত্মিকতার জগতের কাজ শুরু করেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com