এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ শহরে যানজট এখন জনজীবনের অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। যানজট নিরসনে দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থা চালু হলেও তাদেরকে যানজট নিরসনে কোন ভুমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা ব্যস্ত রয়েছেন শহরের প্রবেশ পথে গাড়ীর কাগজপত্র চেকিংয়ের কাজে। শহরের ব্যস্ততম সড়ক ওসমানী রোড, শেরপুর সড়ক, হাসপাতাল সড়ক ও নতুন বাজার মোড়সহ শহরের সর্বত্রই এখন যানজট লেগে থাকে। অপরিকল্পিতভাবে ফুটপাট দখল করে ড্রেনের উপরে নীচে বসছে অবৈধ দোকানপাট। পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি বিহীন মিশুক-টমটম রয়েছে কয়েক হাজার। তারা যার যার খুশি মত গাড়ী পার্কিং করে যাত্রী উঠানামা করে। কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরবতার ফলে যানজট প্রকর হয়ে উঠেছে। কোটি টাকা খরচ করে পৌর কর্তৃপক্ষ গ্রোথসেন্টার, বাসটার্মিনাল নির্মাণ করলেও তা কাজে আসছে না। বিশেষ করে থানা পয়েন্ট ও নতুন বাজার মোড়ে গড়ে উঠা অবৈধ ফুটপাটের দোকানপাট উচ্ছেদ এবং যত্রতত্র স্থানে দাড়িয়ে থাকা মিশুক-টমটম গাড়ীর নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে না নিলে যানজট নিরসন সম্ভব নয় বলে দাবী সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দের। নবীগঞ্জ শহরে এক সময় ট্রাফিক পুলিশ ছিলো না। দীর্ঘদিন দাবীর প্রেক্ষিতে কয়েক বছর ধরে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে প্রায় ৪/৫ জন ট্রাফিক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু তাদেরকে শহরের যানজটের বিষয়ে কোন ভুমিকা রাখতে দেখা যায় নি। তারা ব্যস্ত থাকেন নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কের প্রবেশ পথে, শেরপুর সড়কের পেট্রোলপাম্পের সামনে এবং থানার গেইটের সামনে।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন জীবন বলেন, শহরের যানজট এখন মানবজীবনের অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। উপজেলা আইনশৃৃঙ্খলা মিটিংয়ে একাধিকবার কথা বলেছি। কোন কাজ হয়নি। এখান থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে শহরবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন করবো।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি বলেছেন, শহরকে যানজট মুক্ত করতে সময়ের দাবী। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোরভাবে তার ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি। তিনি বলেন, সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের দোকানের সামনে রাস্তার উপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বসিয়ে ভাড়া নিচ্ছেন। এটাও যানজটের একটি অংশ। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা জেরিন বলেন, খুব শ্রীঘ্রই শহরের যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।