স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের হুইপ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন, আমি বিএনপির ৪২ বছরের পুরোনো একজন কর্মী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিশ্বাস করে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালন করছি। এই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে সিলেট বিভাগের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাই সিলেট বিভাগের উন্নয়নের দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার উদ্যোগে তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে জি কে গউছ বলেন, বিগত ১৭ বছর আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অনেকের পইে সহ্য করা সম্ভব হতো না। আমাকে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কারাগারের ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে। একজন ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তা-ও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যাতে আমি বিএনপি ছেড়ে মাথা নিচু করে বিদেশে চলে যাই। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রের কাছেই মাথা নত করিনি। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, এখনো মানুষের সঙ্গে আছি। জনগণের কাছ থেকে কেউ আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, পারবেও না ইনশাআল্লাহ।
সততা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে জি কে গউছ বলেন, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নের রূপকার। তাঁর সঙ্গে কাজ করে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। সততা কাকে বলে, তা আমি এম সাইফুর রহমানের কাছ থেকেই শিখেছি।
নিজের জন প্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি তিনবার হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলাম। নিজেরা বাজেট করেছি, বাজেট অনুমোদন করেছি এবং ব্যয় করেছি। শত শত কোটি টাকার উন্নয়নকাজের চেকে স্বার করেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে, কিন্তু কোনো দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে জাতীয় সংসদের এই হুইপ বলেন, বিগত সরকারের আমলে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের টেন্ডার ও ঠিকাদার নিয়োগ হলেও জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে, বোকা বানানো হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর আমি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছি এবং বিভিন্ন বাধা দূর করেছি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ অংশের ৮২ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৫০ ভাগ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৪ মাসের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এই মহাসড়কের কাজ সম্পন্ন হলে সিলেট বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জি কে গউছ বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশে ব্যাপক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং সংস্কারের জন্যও ব্যাপক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।