স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া ইউনিয়নের আশেরা-ফান্দ্রাইল চৌধুরী বাড়ী পাঁচ পীরের দরগাহ্ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সাজু মিয়া চৌধুরী নামে কথিত খাদেমকে দরগাহ্ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ৪টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট্ব রিয়াজ মাহমুদ দরগাহ’র কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি দরগাহ্ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে কথিত খাদেম সাজু মিয়া চৌধুরীকে দরগাহ থেকে বের হয়ে যাবার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ প্রদান করেন। ভবিষ্যতে দরগাহ্ প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট্ব রিয়াজ মাহমুদ। পাঁচ পীরের দরগাহ্ ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সূত্র জানায়, আশেরা-ফান্দ্রাইল গ্রামের মরহুম অনু মিয়া চৌধুরীর ছেলে সাজু মিয়া চৌধুরী ২০১৭ সালে পীরের দরগাহ্ ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সদস্য মনোনীত হন। শুধু সদস্য নয়ই মৌখিক ভাবে তিনি মাজারের খাদেম এর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসব দায়িত্ব থাকাকালে তিনি দরগাহ্ ৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। শুধু টাকা আত্মসাতই নয়, তিনি দরগাহ্ ওয়াক্ফ এস্টেট এর কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এ প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর দরগাহ পরিচালনা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী/সভাপতি মোঃ আপ্তাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক চৌধুরী আইনশৃঙ্খলা ও এস্টেট এর স্বার্থে ২০২৫ সালের ১৮ মে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ ওয়াক্ফ প্রশাসক বাংলাদেশ এর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় ওয়াক্ফ হিসাব নিরীক্ষক শাখার একটি টিম সরেজমিনে তদন্ত করে অর্থ আত্মসাতসহ সাজু মিয়া চৌধুরীর নানা অনিয়মের সত্যতা পান। পরর্তীতে তারা ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ওয়াক্ফ প্রশাসক কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের যুগ্ম সচিব মোঃ শাহীন হোসেন এ ব্যাপারে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা ওয়াক্ফ উন্নয়ন কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ প্রদান করেন। যার স্মারক নং-১৬.০২.০০০০.০৪৭.৩১.০০০.১৬/৪১। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের পক্ষে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর আত্মসাতকৃত টাকা আদায়করণ এবং ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনায় কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ এর ৬৪ ধারায় সাজু মিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। যার স্মারক নং-০৫.৪৬.৩৬০০.০১৮.০৬.০৩৬.২০২৫-৪১৩ (৪)।
এ ব্যাপারে ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী আপ্তাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক চৌধুরী জানান, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সাজু মিয়া বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম। প্রশাসন আমাদের আহ্বানে সারা দিয়ে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। এতে এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।