বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

বানিয়াচঙ্গে সম্ভ্রমহারা তরুণীর মৃত্যু ॥ সাবিনার প্রেমিক ঝুম্মানের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭
  • ৬০০ বা পড়া হয়েছে

মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে ॥ বানিয়াচঙ্গে সম্ভ্রমহারা তরুনীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ধর্ষক ঝুম্মান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বম্পা জাহান এর আদালতে ধর্ষক ঝুম্মান এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। জবানবন্দী দেয়ার পরপরই বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
কাগাপাশা ইউনিয়নের লোহাজুড়ি গ্রামের নিহত তরুনীর পিতা মোঃ চান ওরফে নিবর্ষা বাদী হয়ে গত বুধবার ৯(২)/৩০  ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ ,তৎসহ ৩১৩ পেনাল কোড -১৮৬০, ধর্ষণ করিয়া গর্ভধারণ, গর্ভপাত ও মৃত্যু ঘটনো এবং সহায়তা করার অপরাধে ঝুম্মানসহ ১১জনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হচ্ছে- ধর্ষক ঝুম্মান, শালিস বৈঠকের সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সর্দার নজরুল ইসলাম খান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন খান, বকুল মিয়া খান, জামাল উদ্দিন খান, নান্দু মিয়া খান, মোছাঃ বাইতুন নেছা, ইউপি সদস্য আকবর হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য উমেদ আলী, আলাল উদ্দিন,খন্দকার মিয়া খান।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী চান মিয়া তার অবিবাহিত মেয়ে সাবিনাকে নিয়ে তার নিজ বাড়ীতে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে মেয়ে সাবিনা ছাড়া আর কোন লোক ছিল না। অনুমান ৫/৬ মাস পূর্বে সাবিনা তাদের গরুর জন্য ঘাস আনতে হাওরে গেলে আসামী ঝুম্মান একই গ্রামের বকুলের সহায়তায় তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য আসামীদ্বয় সাবিনাকে হুমকি দেয়। সাবিনা ভয়ে ও লোক সমাজের লজ্জায় বিষয়টি কাউকে বলে নি, এক পর্যায়ে সাবিনার শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন হলে পাশের বাড়ীর মহিলারা সাবিনার কাছে এর কারন জিজ্ঞেস করলে সাবিনা জানায়-হাওরে ঘাস কাটাবস্থায় পেয়ে বকুলের সহায়তায় ঝুম্মান তাকে জোর ধর্ষণ করায় তার পেটে বাচ্চা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে আমাদের আত্মীয় আলতাব মিয়ার মাধ্যমে জুম্মান এর বাবা, মা এবং তার চাচা জামাল মিয়ার কাছে এর বিচার চাওয়া হয়। ঘটনাটি গোপন রেখে তারা গর্ভ নষ্ট করতে বলে। পেটে বাচ্চা থাকাবস্থায় কোন বিচার হবে না। এক পর্যায়ে তারা মেয়েকে হবিগঞ্জে নিয়ে ৪ দিন অবস্থান করে গর্ভ নষ্ট করে। পরবর্তী ১৩ জুলাই জুরমুজ আলী খানের ঘরের মধ্যে নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আসামীরা প্রহসনের বিচার কাজ শুরু করে। বিচারে জুম্মান কে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ হাজার টাকা, বকুল মিয়াকে ২৫ হাজার টাকা এবং আমরা যেন আর এব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করি সে জন্য ষড়যন্ত্র করে আমার আত্মীয় আলতাব কে ৫হাজার ও আমার নাতী আছমা বেগমকে ৫ হাজার জরিমানা করে। ৩০ জুলাইর মধ্যে মেয়েকে টাকা দেয়ার জন্য রায় দেয় পঞ্চায়েতের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। সালিশের ৩দিন পর জ্বালানী আনার জন্য মেয়ে সাবিনাকে বাড়ীতে একা রেখে পরিবারের লোকজন দক্ষিণ সাঙ্গর অপর মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যায়। তখন বেশী রাত হওয়া তারা আর বাড়ী ফিরে নি। পরদিন ১৭ জুলাই অন্য কাজে বাজারে গেলে অনুমান সাড়ে ১০ টার দিকে সাবিনা গলায় ফাঁস দিয়ে মরে মাটিতে পড়ে আছে। বাড়ীতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মাটিতে বসা তক্তার সাথে গলা লাগানো। কাছে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের গলায় কালো দাগ ও ফোলা জখম রয়েছে। তিনি এজাহারে বলেন তার মেয়েকে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যার পর ফাঁস লাগানোর ঘটনা সাজিয়েছে আসামীরা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com