সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

মাধবপুর শাহজালাল কলেজের ১৩ প্রভাষকের চাকুরী অনিশ্চিত ॥ ২৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবী ॥ শিক্ষকদের আত্মহননের হুমকি

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৬
  • ৫৩৭ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধবপুর উপজেলার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ১৩ প্রভাষকের চাকুরী স্থায়ীকরণের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনপ্রতি ২লাখ করে ২৬ লাখ টাকা না দিলে তাঁদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হবেনা বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। আর চাকুরীচ্যুত করা হলে আত্মহননের হুমকি দিয়েছেন তারা।
গতকাল হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মমতাজ বেগম বলেন, কলেজ কমিটির একটি অংশের ঘুষ দুর্নীতির কারণে শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরণ হচ্ছে না। তারা প্রত্যেকের চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য জনপ্রতি ২ লাখ টাকা করে ঘুষ চান বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে কলেজের গভর্ণিং কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ কমিটির প্রধান স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর কাছে গেলেও তিনি কোন সমাধান দেননি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে আমাদের সোনালী ভবিষ্যত নষ্ট হচ্ছে। চাকুরী স্থায়ীকরণ না হলে আমাদের আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
Pic copyসংবাদ সম্মেলনে বঞ্ছিত শিক্ষকরা বলেন, কলেজ জাতীয়করণ করা হবে বলে অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। তারা সকলেই ডিগ্রী ও অনার্স পর্যায়ে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময় নিয়োগ লাভ করেন। কিন্তু এর পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়োগ বৈধকরণের কথা বলে আরও কয়েকবার সার্কুলার দিয়ে তাদের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর আবারও তাদের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়। সেখানে শতাধিক প্রার্থী অংশ নিলেও সংবাদ সম্মেলনকারী ১৩জন নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। এর পর থেকেই কমিটির সভায় তাদের নিয়োগপত্র দেয়ার সিদ্ধান্তে কমিটির অনেক সদস্য সাক্ষর করেননি। টাকা না দিলে তারা সাক্ষর করবেন না বলে জানালে তারা বারবার অধ্যক্ষকে তাগাদা দেন। এমনিভাবে আরও ১০/১২বার মিটিং এর তারিখ করলেও কমিটির সভাপতি না আসায় কোন মিটিং হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে তারা আরও বলেন, সম্প্রতি কলেজে অডিট টিম আসলে অধ্যক্ষ তাদেরকে টিমের সাথে দেখা করার সুযোগ দেননি। তিনি নিজেও তাদের ব্যাপারে টিমকে কিছু জানাননি। তারা জানান, চাকুরী স্থায়ী হওয়ার আশায় স্বল্প বেতনে এতদিন যাবৎ কাজ করে আসছেন। এখন চাকুরীর বয়সও তাদের নেই। এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষকরা হলেন, প্রভাষক মমতাজ বেগম, সৈয়দ শাহ নেওয়াজ, মুবিন উদ্দিন, মিজানুর রহমান, সেলিম মিয়া, সাহাব উদ্দিন, খলিলুর রহমান, দুলাল মিয়া, আজিজা খানম, মুর্শেদা বেগম, শামীমা আক্তার, সাইফুল ইসলাম ও মশিউর রহমান।
এ ব্যাপারে কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর সাথে কথা বলতে চাইলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক টেলিফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com